আজকাল ওয়েবডেস্ক: অ্যাম্বুল্যান্স আসতে দেরি হওয়ায় মৃত্যু হয় সাংবাদিকের। মধ্যপ্রদেশের সাংবাদিক দীপক সোনি। মাসিক পত্রিকা ‘স্বর্ণ মঙ্গলম’-এর সম্পাদক তিনি। গত শুক্রবার যাচ্ছিলেন রাইসেনের একটি কৃষি মেলায়। পথে তাঁর সঙ্গে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনা ঘটার পরে সোনিকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে শুরু করে। ফলে তাঁকে ভোপালের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। ডাক পড়ে অ্যাম্বুল্যান্সের। কিন্তু ঘণ্টা তিনেক অপেক্ষায় কেটে গেলেও আসে না অ্যাম্বুল্যান্স।
সোনির শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে শুরু করে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা আর অ্যাম্বুল্যান্স জন্য অপেক্ষা না করে বাধ্য হয়ে একটা অন্য গাড়িতে করে ভোপালের হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তিনি সেই হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবসহ ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে একটি কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠানের ‘ভিআইপি দায়িত্ব’ পালনে সমস্ত অ্যাম্বুল্যান্স ব্যস্ত ছিল। ফলে সোনির জন্য সময়ের মধ্যে কোনও অ্যাম্বুল্যান্স আসতে পারেনি।
সূত্রের খবর, সিভিল সার্জন যশপাল বালিয়ান স্বীকার করেছেন যে সমস্ত অ্যাম্বুল্যান্স ভিআইপি দায়িত্ব পালনেই ব্যস্ত ছিল। ফলে কোনও বিকল্প ব্যবস্থা করা যায়নি ওঁর জন্য। এই ঘটনাটি সাধারণ জনগণ ও সাংবাদিকদের মধ্যে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁরা নানা উপায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সোনির মৃত্যুর পরে রায়সেনের সাংবাদিকরা জেলা কালেক্টরের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং-এর কাছেও একটি স্মারকলিপি জমা পড়েছে। স্মারকলিপিগুলিতে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে।
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়ায় জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী নরেন্দ্র প্যাটেল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। তাঁর বক্তব্য, ‘যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের থেকে কোনওরকমের গাফিলতি সামনে আসে বা অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবায় কোনও গাফিলতি তদন্তে বেরিয়ে আসে, তাহলে যথাযহ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাংবাদিক দীপক কাগর এই ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে মনে করছেন। তাঁর কথায়, ‘আমার এক সহকর্মী জীবন মৃত্যুর মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাঁর পরিবারের কেউ একটা অ্যাম্বুল্যান্স পাননি। এমনকী যখন সিভিল সার্ভেন্টের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ করেন তখনও হতাশজনক প্রতিক্রিয়া পান।’
















