আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ সত্ত্বেও দেশে জ্বালানি সরবরাহের অবস্থা স্থিতিশীল। পেট্রল, ডিজেল বা রান্নার গ্যাসের কোনও ঘাটতি নেই বলে গত কয়েকদিন ধরেই দাবি করছে কেন্দ্র। তাতেই আশ্বস্ত দেশবাসী। কমেছে আতঙ্কের বহর। ফলে, এক ধাক্কায় অনেকটা কমল এলপিজি রিফিল বুকিংয়ের সংখ্যা। একদিনে তা ৮৮.৮ লাখ থেকে নেমে দাঁড়াল ৭৭ লাখে। 

পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক অবস্থার কথা জানাতে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো পেট্রল পাম্প বা এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপগুলোতে কোনও ধরনের ঘাটতির খবর দেয়নি। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, দেশের সব অভ্যন্তরীণ শোধনাগার পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে। এছাড়া পেট্রল ও ডিজেল উৎপাদনে ভারত স্বয়ংসম্পূর্ণ, যার অর্থ হল অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন নেই।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলপিজি বুকিং কমে যাওয়ার বিষয়টি শনিবার রেকর্ড করা হয়েছে। সেদিন প্রায় ৭৭ লাখ সিলিন্ডার বুক করা হয়েছে। গত শুক্রবার ১৩ মার্চ বুকিংয়ের সংখ্যা ছিল ৮৮.৮ লাখ। একই সময়ে, অনলাইনে এলপিজি বুকিংয়ের হার ৮৪ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৮৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধির নেপথ্যে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর প্রচারকে দায়ী করা হচ্ছে। সরকারি প্রচারে গ্রাহকদের এলপিজি ডিলাররের কাছে গিয়ে আতঙ্কিত হয়ে সিলিন্ডার বুক করার পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে সিলিন্ডার বুক করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, তারা পরিবার এবং হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি জায়গার জন্য এলপিজি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাচ্ছে।

বিহার, দিল্লি, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের মতো বেশ কয়েকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরকারের নির্দেশিকা মেনে অ-গার্হস্থ্য এলপিজি বরাদ্দের বিষয়েও আদেশ জারি করেছে।

পেট্রল, ডিজেল এবং এলপিজি মজুত করা বা কালোবাজারে বিক্রি রোধ করতে প্রশাসন নজরদারি জোরদার করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও বিহার-সহ বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারি খাতের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর আধিকারিকরা এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে গিয়ে নজরদারি চালাচ্ছেন।  

সরকার নাগরিকদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে যে, সারা দেশেই পেট্রল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (পিএনজি) ও সিএনজি-এর ১০০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য গ্যাসের সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশে সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে। সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিতরণের জন্য রাজ্য সরকারগুলোর এখতিয়ারে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এগুলো সহজলভ্য।

সরকার এলপিজি নিয়ন্ত্রণ আদেশেও সংশোধন এনেছে, যার ফলে পিএনজি সংযোগধারী গ্রাহকদের তাদের গার্হস্থ্য এলপিজি সংযোগগুলো সমর্পণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তেল শোধনাগারগুলোতে গার্হস্থ্য এলপিজি উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে বুকিংয়ের মধ্যবর্তী সময়সীমা বা ব্যবধানকে বাড়ানো হয়েছে।  

এদিকে, বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে যে- তারা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তার জন্য ভারতীয় মিশনগুলোতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা খোলা হেল্পলাইনের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ওই অঞ্চল থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৯৪ হাজার যাত্রী ভারতে ফিরে এসেছেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে এলপিজি বুকিংয়ের প্রচার অব্যাহত রেখেছে এবং সরবরাহ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে রবিবারগুলোতেও তাদের ডিলারশিপগুলো খোলা রাখছে।

সরকার আবারও নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং অপ্রয়োজনীয় বুকিং করা কিংবা এলপিজি ডিলারশিপগুলোতে অকারণে ভিড় করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া, যেসব এলাকায় পিএনজি-র সুবিধা রয়েছে, সেখানকার গ্রাহকদের এলপিজি-র পরিবর্তে পিএনজি-র মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রতিনিয়ত সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে।