আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর তিন দিনের সরকারি সফরের সময় ভারত ও ফ্রান্স যৌথভাবে হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ম্যাক্রোঁ ১৬ ফেব্রুয়ারি মুম্বই পৌঁছাবেন। তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র কী?
হ্যামার (হাইলি এজাইল মডুলার মিউনিশন এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ) ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে রাফালে যুদ্ধবিমানে ব্যবহার হয়ে থাকে। এখনও পর্যন্ত এই ক্ষেপনাস্ত্র ফ্রান্স থেকে আমদানি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তির দরুন, এবার ভারতেই তৈরি হবে হ্যামার ক্ষেপনাস্ত্র।  

হ্যামার, মানে হাতুড়ি। হ্যামার ক্ষেপনাস্ত্রের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুকে হাতুড়ি দিয়ে ধ্বংস করার ক্ষমতাকে বোঝায়। এটা একটা স্মার্ট নির্ভুল-নির্দেশিত বোমা, যা নির্ভুলভাবে আকাশ থেকে ভূমিতে আক্রমণের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

বিস্ফোরক সমৃদ্ধ হ্যামার ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতের পরিসীমা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার। এটা পাহাড়ি অঞ্চলে সুরক্ষিত বাঙ্কারগুলিতে আঘাত হানতে খুবই কার্যকরী। দেশে এর উৎপাদনের ফলে ভারতীয় বিমান বাহিনী আরও শক্তি অর্জন করবে। এছাড়াও আমদানির উপর নির্ভরতা কমাবে এবং 'মেক ইন ইন্ডিয়া'র প্রচারের সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথম ২০০৭ সালে প্যারিস এয়ার শোতে এএএসএণ (আর্মিমেন্ট এয়ার-সোল মডুলেয়ার) নামে জনসমক্ষে প্রদর্শিত হয়েছিল। ২০১১ সালে, এর নামকরণ করা হয়েছিল হ্যামার। এটাকে মাঝারি পাল্লার আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।

ক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত শক্তি
ক্ষেপণাস্ত্রটির ওজন প্রায় ৩৩০ কিলোগ্রাম। এটা দীর্ঘ-উচ্চতাসম্পন্ন অঞ্চলেও সুনির্দিষ্ট আঘাত হানতে তৈরি করা হয়েছে। এই ক্ষেপনাস্ত্র 'ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট' নীতিতে কাজ করে, যার অর্থ একবার লক্ষ্যবস্তু লক হয়ে গেলে এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হলে, এর জন্য আরও নির্দেশের প্রয়োজন হয় না।

হ্যামার ক্ষেপনাস্ত্র স্থির এবং চলমান উভয় লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করতে সক্ষম। এই অস্ত্রের নিখোঁজ হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

হ্যামারে ১২৫ কিলোগ্রাম থেকে ১,০০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ারহেড বিকল্প উপলব্ধ। ক্ষেপণাস্ত্রটি সমস্ত আবহাওয়ায় কাজ করতে পারে। দিন বা রাত, যেকোনও সময়ে অভিযানের সময় ব্যবহার করা যেতে পারে।

একটি রাফালে বিমান, ২৫০ কিলোগ্রাম ওজনের ছ'টি হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। যার ফলে রাফালে থেকে একসঙ্গে ছ'টি পৃথক নিশানায় আঘাত করা সম্ভব।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উপর জোর
'দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন'-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড তাদের মূল ফরাসি নির্মাতা, সাফরান ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ডিফেন্সের সঙ্গে ৫০-৫০ যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে।

ক্ষেপণাস্ত্র আলোচনার পাশাপাশি, ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে ১১৪টি রাফালে বিমানের প্রস্তাবিত চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৯৬টি ভারতে তৈরি হবে বলে খবর। বাকি বিমানগুলি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় সরবরাহ করা হবে। সরবরাহের দায়িত্ব ডাসল্ট অ্যাভিয়েশনের।
 
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ম্যাক্রোঁ-র কর্নাটকের ভেমাগালে একটি হেলিকপ্টার অ্যাসেম্বলি লাইন উদ্বোধন করার কথা। প্রকল্পটি টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস এবং এয়ারবাসের মধ্যে এইচ-১২৫ হেলিকপ্টার তৈরির জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ।