স্ত্রীকে খোরপোশ বা জীবনধারণের খরচ না দেওয়া কেবল আর্থিক টানাপোড়েন নয়, এটি সরাসরি গার্হস্থ্য হিংসা ও আর্থিক নির্যাতনের (Economic Abuse) সামিল—এক তাৎপর্যপূর্ণ মামলায় এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করল কেরালা হাইকোর্ট। বিচারপতি জোবিন সেবাস্টিয়ানের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২০০৫ সালের নারী সুরক্ষা ও গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ আইনের অধীনে খোরপোশ না দেওয়া নিজেই একপ্রকার নির্যাতন, যার জন্য আলাদা করে শারীরিক বা মানসিক অত্যাচারের অতিরিক্ত প্রমাণের কোনও প্রয়োজন পড়ে না।
ঘটনার সূত্রপাত পালক্কডের এক ৪২ বছর বয়সী ব্যক্তির দায়ের করা রিভিশন পিটিশনকে কেন্দ্র করে। নিম্ন আদালত উক্ত ব্যক্তিকে স্ত্রী ও নাবালিকা কন্যাসন্তানের জন্য প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা করে মোট ২০,০০০ টাকা খোরপোশ এবং মানসিক যন্ত্রণার ক্ষতিপূরণ হিসেবে এককালীন ২ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন স্বামী। তাঁর আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন যে, স্ত্রী উচ্চশিক্ষিত এবং অতীতে একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন, ফলে খোরপোশের দাবি অতিরিক্ত। পাশাপাশি গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগকেও অস্বীকার করেন তিনি।
তবে কেরালা হাইকোর্ট স্বামীর এই যুক্তি পুরোপুরি খারিজ করে দেয়। বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে দেখে যে, ওই মহিলা মাত্র আট মাস একটি কলেজে নামমাত্র বেতনে চাকরি করেছিলেন। অতীতে স্বল্পমেয়াদী চাকরি করার অজুহাতে কোনও স্বামীকে তাঁর আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া যায় না। আদালত স্পষ্ট জানায়, একজন কর্মক্ষম স্বামীর নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব হল নিজের স্ত্রী ও সন্তানের সম্মানজনক জীবনযাত্রা সুনিশ্চিত করা।
গার্হস্থ্য হিংসার মামলার প্রমাণ প্রসঙ্গে আদালত উল্লেখ করে, চার দেয়ালের মধ্যে ঘটে যাওয়া পারিবারিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে স্বাধীন প্রত্যক্ষদর্শীর প্রমাণ পাওয়া সবসময় সম্ভব নয়। স্বামী গত এক বছর ধরে স্ত্রী ও সন্তানকে কোনো আর্থিক সহায়তা না দেওয়ায় তা স্পষ্টতই আর্থিক নির্যাতন। ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া নির্দেশকে পুরোপুরি বহাল রেখে স্বামীর আর্জি খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। আইনের এই ব্যাখ্যা আগামী দিনে পারিবারিক বিরোধ ও নারী অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছে আইনি মহল।
















