আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজকে কোচি বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চলতি পরিস্থিতিতে কেন এই সিদ্ধান্ত নিল ভারত সরকার? এর কারণ অবশেষে ব্যাখ্যা করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

তাঁর কথায়, ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। শনিবার রাইসিনা ডায়ালগে বক্তব্য রাখেন জয়শঙ্কর। সেখানেই তিনি এই বিষয়টি নিয়ে প্রথমবার বিস্তারিত কথা বলেন।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য সূত্র অনুযায়ী, জয়শঙ্কর জানান, আমেরিকা ও ইজরায়েল যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, তখনই ইরানের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে একটি অনুরোধ আসে।

তারা জানায়, তাদের একটি জাহাজ ভারত-সীমানার খুব কাছাকাছি রয়েছে। সেটিতে প্রযুক্তিগত গোলযোগ দেখা দিয়েছিল। ইরানের ওই জাহাজটির নাম আইআরআইএস লাভান। জাহাজটিতে মোট ১৮৩ জন নাবিক ছিলেন।

তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন তরুণ ক্যাডেট। জয়শঙ্কর আরও জানান, জাহাজটি মূলত একটি নৌ মহড়ায় অংশ নিতে বেরিয়েছিল। কিন্তু, মধ্যপ্রাচ্যে হঠাৎ উত্তেজনা বাড়ায় সেটি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যায়।

জাহাজটি ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউয়ে অংশ নিতে এই অঞ্চলে এসেছিল। উল্লেখ্য, এই নৌ মহড়াটি ভারত আয়োজন করেছিল ফেব্রুয়ারি মাসে। ভারত ১ মার্চ ইরানের অনুরোধে সাড়া দেয়।

অনুমতি মিলতেই কয়েক দিন সমুদ্রপথে যাত্রা করে ৪ মার্চ কোচি বন্দরে এসে পৌঁছয় আইআরআইএস লাভান। জয়শঙ্করের দাবি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সিদ্ধান্ত নেয়।

জাহাজটিতে অনেক তরুণ ক্যাডেট ছিলেন। তাই তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও ভারত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছিল। তিনি বলেন, আইনগত দিক ছাড়াও মানবিক দিক বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তাঁর মতে, ভারত সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। এই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই আর একটি ইরানি জাহাজ ডুবে যায়। জাহাজটির নাম ছিল আইআরআইএস ডেনা।

৪ মার্চ ভারত মহাসাগরে একটি আমেরিকান সাবমেরিনের টর্পেডোর আঘাতে জাহাজটি ডুবে যায়। এই ঘটনায় ৮০ জনের বেশি ইরানি নাবিকের মৃত্যু হয়। পরে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ৩২ জন নাবিককে উদ্ধার করে।

ভারতের বিদেশমন্ত্রীর কথায়, শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছাকাছি ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিরোধীদের অভিযোগ, এই ঘটনায় ভারত সরকার চুপ থেকেছে।

তবে সরকার জানায়, বিপদের সংকেত পাওয়ার পরে উদ্ধার অভিযানে ভারতও অংশ নিয়েছিল। ভারতীয় নৌবাহিনী একটি মেরিটাইম প্যাট্রোল বিমান পাঠায়।

পাশাপাশি আইএনএস তারাঙ্গিণী এবং আইএনএস ইক্ষক নামের জাহাজকেও উদ্ধার কাজে মোতায়েন করা হয়। জয়শঙ্কর ভারত মহাসাগরের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন।

তাঁর দাবি, এই অঞ্চলে বহু বিদেশি শক্তি বহু বছর ধরেই উপস্থিত রয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসাবে বলেন, দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। আবার জিবুতি এলাকাতেও বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনী রয়েছে। তাই এই অঞ্চলের পরিস্থিতি বুঝতে হলে বাস্তবতা মাথায় রাখতে হবে।