আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এক রহস্যময় মোড় নিল। লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হওয়ার প্রায় ৯৪০ দিন পর, কেন্দ্রীয় সরকার হঠাৎ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২০২৩ সালের '১০৬তম সংবিধান সংশোধনী আইন' (নারী সংরক্ষণ আইন) কার্যকর করার ঘোষণা করেছে। অদ্ভুত বিষয় হল, এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে হল যখন সংসদের বিশেষ অধিবেশনে নারী সংরক্ষণকে হাতিয়ার করে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করার জন্য আরও তিনটি নতুন বিল নিয়ে আসা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, যে আইনটি আড়াই বছর আগে পাস হয়ে রাষ্ট্রপতির সই পেয়ে পড়ে ছিল, সেটিকে হঠাৎ মাঝরাস্তায় কেন নতুন করে 'নোটিফাই' করতে হল?
এই রহস্যের গভীরে লুকিয়ে আছে সংসদের 'রুল ৬৬'-এর মারপ্যাঁচে পড়ার ভয়। বিরোধীদের দাবি, সরকার বুঝতে পেরেছে যে নতুন আনা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার কারণে আটকে যেতে পারে। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনও নতুন বিলের ওপর ভিত্তি করে পুরোনো কোনও আইনের কার্যকারিতা নির্ভর করে এবং সেই নতুন বিলটি ব্যর্থ হয়, তবে মূল আইনটিও অকেজো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই বিপদ এড়াতেই সম্ভবত সরকার তড়িঘড়ি করে ২০২৩ সালের আইনটিকে সক্রিয় করে দিল, যাতে লোকসভা বাড়ানোর নতুন বিলগুলো যদি ভেস্তেও যায়, তবুও নারী সংরক্ষণ আইনটি কাগজে-কলমে বেঁচে থাকে।
বিরোধী নেতাদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত 'রাজনৈতিক চাল'। সরকার একদিকে নারী সংরক্ষণের দোহাই দিয়ে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতা কমিয়ে হিন্দি বলয়ের আধিপত্য বাড়ানোর চেষ্টা করছে, আবার অন্যদিকে বিরোধীরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের 'নারী বিরোধী' হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার কৌশল নিচ্ছে। কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারির মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের মতে, নতুন বিলগুলো পাস করানোর মতো পর্যাপ্ত সংখ্যা সম্ভবত সরকারের হাতে নেই, আর তাই এই 'ডেসপারেট' বা মরিয়া চেষ্টা।
বর্তমানে দেশে নতুন জনগণনার কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের নতুন বিলগুলোতে বলা হয়েছে, সংসদ যে জনগণনা বেছে নেবে তার ভিত্তিতেই আসন বিন্যাস হবে। কিন্তু বিরোধীদের মূল আপত্তি এখানেই—নারী সংরক্ষণের মতো একটি মহৎ লক্ষ্যকে কেন আসন সংখ্যা বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস করার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে? একদিকে লোকসভার আসন ৮৫০ করার অনিশ্চিত লক্ষ্য, আর অন্যদিকে মাঝপথে হঠাৎ কার্যকর হওয়া পুরনো নারী সংরক্ষণ আইন—দিল্লির অলিন্দে এখন একটাই আলোচনা: এই গোলকধাঁধার আড়ালে সরকার আসলে কার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে চাইছে?















