আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইজরায়েল–ইরান সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একাধিক দেশের আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারত–পশ্চিম এশিয়া এবং ইউরোপ/আমেরিকাগামী কিছু রুটে ফ্লাইটের সময় বৃদ্ধি, বিকল্প পথে উড়ান, এমনকি বাতিল ও স্থগিতের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বিমান সংস্থাগুলিকে।
ইজরায়েলের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লি থেকে তেল আভিভগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI139 ফ্লাইট মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে মুম্বইয়ে ফেরানো হয়। এক বিবৃতিতে Air India জানায়, “যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং ইজরায়েলের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় দিল্লি–তেল আভিভ ফ্লাইটটি ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।” সংস্থা আরও জানায়, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মান বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর এবং পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।

অন্যদিকে IndiGo তাদের ভ্রমণ পরামর্শে জানিয়েছে, তারা ইরান ও তার আকাশসীমা সংক্রান্ত পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। সংস্থার তরফে যাত্রীদের উড়ানের আগে ফ্লাইটের স্ট্যাটাস পরীক্ষা করার অনুরোধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বদলালে যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত আপডেট পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশের আকাশসীমা প্রভাবিত হয়েছে। Qatar Airways কাতারের আকাশসীমা বন্ধ হওয়ায় সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিতের কথা জানিয়েছে। Turkish Airlines ২৮ ফেব্রুয়ারি কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও ওমানগামী পরিষেবা বাতিল করেছে এবং ২ মার্চ পর্যন্ত লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইরান ও জর্ডানে উড়ান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
Bulgaria Air ২ মার্চ পর্যন্ত তেল আভিভের সমস্ত উড়ান বাতিল করেছে। Virgin Atlantic জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে ইরাকি আকাশপথ এড়িয়ে চলবে। এছাড়া Air France ২৮ ফেব্রুয়ারি তেল আভিভ ও বেইরুটের ফ্লাইট বাতিল করেছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট Flightradar24 জানিয়েছে, বহু উড়ান বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কাজান–দুবাই FZ984 ফ্লাইটটি বাকুতে ডাইভার্ট করা হয়। শিকাগো–দিল্লি, শারজাহ–মস্কো কিংবা দুবাই–সান ফ্রান্সিসকোর মতো দীর্ঘ দূরত্বের উড়ানও নতুন রুট ধরে চলেছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের উপর হামলা চালায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র “ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান” শুরু করেছে। অন্যদিকে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান, এই যৌথ হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের “অস্তিত্বগত হুমকি” নির্মূল করা। ইরান পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং ইরাকও তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে বলে খবর।
যাত্রীদের কী সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে?
আকাশসীমা বন্ধ বা সংঘাতজনিত বিধিনিষেধের কারণে সাধারণত উড়ানগুলিকে বিকল্প পথ নিতে হয়। ফলে—
- উড়ানের সময় বেড়ে যেতে পারে
- অতিরিক্ত জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হতে পারে
- দেরি বা ডাইভারশন ঘটতে পারে
- পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটেও প্রভাব পড়তে পারে
এছাড়া এয়ারলাইন্সগুলি পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিষেবা একত্রিত করা, সময় বদলানো বা সাময়িক স্থগিত করার সিদ্ধান্তও নিতে পারে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল। তাই যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার ওয়েবসাইট বা কাস্টমার কেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে—এমনটাই জানাচ্ছে বিমান সংস্থাগুলি।
