আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিষাক্ত পানীয় জল খেয়ে মৃত্যুমিছিল বেড়েই চলেছে। সেই তালিকায় আরও এক শিশু। মাত্র দু'বছর বয়সেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছে এক শিশু। সেই বিষাক্ত পানীয় জল খেয়েই আবারও ঘটল বিপত্তি।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি ভাগীরথপুরার বাসিন্দা। বহু মানতের পর জন্মেছিল সে। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, একমাস আগে থেকেই অসুস্থ ছিল সে। বিষাক্ত পানীয় জল খাওয়ার পর থেকেই ঘনঘন বমি, ডায়েরিয়ার উপসর্গ ছিল। ভর্তিও ছিল হাসপাতালে। দীর্ঘ একমাস অসুস্থতায় ভোগার পর হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে তার।
পরিবার আরও জানিয়েছে, গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে অসুস্থ ছিল শিশুকন্যা। বিষাক্ত পানীয় জল খাওয়ার পর থেকেই ডায়রিয়ার উপসর্গ ছিল তার। দু'টি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা চললেও ক্রমেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লিভারের সমস্যাতেও ভুগছিল ওই শিশুকন্যা। নিউমোনিয়াও হয়েছিল। গত মঙ্গলবার শহরের সরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে।
ইন্দোরের ভাগীরথপুরায় বিষাক্ত পানীয় জল খেয়ে এখনও পর্যন্ত ৩৩ জনের বেশি মৃত্যু হয়েছে। যদিও সরকার জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০টি পরিবারকে দু'লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের শেষ থেকেই ইন্দোরে বিষাক্ত পানীয় জল খেয়েই মৃত্যুমিছিল শুরু হয়। জানুয়ারির শুরুতেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন ছিলেন ২০০ জন। ঘনঘন বমি, পেট ব্যথা, পেট খারাপের মতো উপসর্গ ছিল সকলের। বিষাক্ত পানীয় জল খাওয়ার পরেই বিপত্তি বাড়ে। অসুস্থ হয়ে পড়েন ন'হাজারের বেশি বাসিন্দা।
এরপর গুজরাটের গান্ধীনগরেও বিষাক্ত জলের অভিযোগ উঠেছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারির শুরুতে গান্ধীনগরের শতাধিক বাসিন্দা টাইফয়েডে আক্রান্ত হন। গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে ১০৪ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের তালিকায় শিশুরাও ছিল।
গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সংঘভি ইতিমধ্যেই গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জানান, ২২ জন বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তারদের নিয়ে একটি টিম তৈরি করে, রোগীদের দেখভাল করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এই টিম।
