আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়ার সংঘাতে ফের নিহত এক ভারতীয়। কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইরানের চালানো হামলায় এক ভারতীয় কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সেদেশের  বিদ্যুৎ মন্ত্রক। এই হামলায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির একটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুয়েতের বিদ্যুৎ, জল ও নবায়নযোগ্য শক্তি বিষয়ক মন্ত্রক জানিয়েছে, ঘটনাটি রবিবার সন্ধ্যায় ঘটেছে। মন্ত্রক এটিকে দেশটির ওপর "ইরানি আগ্রাসনের"ই একটি অংশ হিসেবে অভিহিত করেছে।

মন্ত্রকের মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়র ফাতিমা আব্বাস জওহর হায়াত এক বিবৃতিতে বলেন, "কুয়েত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের আগ্রাসনের অংশ হিসেবে একটি বিদ্যুৎ ও জল শোধন কেন্দ্রের একটি পরিষেবা ভবনে হামলা চালানো হয়। এর ফলে এক ভারতীয় কর্মী নিহত হন এবং ওই ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।"

এই ঘটনার বিষয়ে কুয়েতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস কিংবা ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহত ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়াল। নিহতদের তালিকায় সৌদি আরবে একজন, ওমানে দু'জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে দু'জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এছাড়াও একজন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, রিয়াদ, মাস্কাট, আবুধাবি এবং বাগদাদে অবস্থিত ভারতীয় মিশনগুলো নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সমন্বয় করছে এবং সেখানে আটকে পড়া নাগরিকদের সহায়তা প্রদান করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্য এশিয়ায় উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ওই দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে, যা পুরো পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ব্যাপক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটায়। এই লড়াইয়ের ফলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনিও নিহত হন। পাল্টা জবাবে ইরানও ইজরায়েল এবং তার 'বন্ধু' দেশ জর্ডান, ইরাক, সৌদি-সহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশকে (যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বা সম্পদ রয়েছে) নিশানা করে। সেই সব দেশে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।