ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা চূড়ান্ত হতেই আমেরিকার ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের দপ্তর ভারতের একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। সেখানে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও চীন অধিকৃত 'আকসাই চীন' ভারতের ভূখণ্ড বলে দেখানো হয়। ফলে প্রবল অস্বস্তিতে পড়ে ইসলামাবাদ। এরপরই ইসলামাবাদের তরফে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারপরই আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের এক্স হ্যান্ডল থেকে মুছে দেওয়া হয় মানচিত্রটি।
2
7
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশ করা ভারতীয় মানচিত্রটি 'ভুল' বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। বিষয়টি জাতিসংঘ-স্বীকৃত মানচিত্রতের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেও জানানো হয়েছে।
3
7
পাক বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, "মানচিত্রটি কিছু হ্যান্ডেল মারফৎ পোস্ট করা হয়েছিল। আমরা মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা বুঝতে পেরেছে যে মানচিত্রটি ভুল। জম্মু ও কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক মানচিত্র, যা পাকিস্তান এবং ভারতীয় অঞ্চলগুলিকে চিহ্নিত করে, আইনত জাতিসংঘ অনুমোদিত। কেউ যদি জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে যান, তাহলে আসল মানচিত্রটি দেখা যাবে।"
4
7
তাহির আন্দ্রাবি আরও বলেন যে, পাকিস্তান "সন্তুষ্টির সঙ্গে উল্লেখ করছে যে- মার্কিন পক্ষ আমাদের অঞ্চলের আইনগত জাতিসংঘ-অনুমোদিত মানচিত্রটি তুলে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধন করেছে, যা স্পষ্টভাবে জম্মু ও কাশ্মীরকে একটি বিতর্কিত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে, যার নিষ্পত্তি জাতিসংঘ-শাসিত গণভোটের মাধ্যমে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুসারে সম্পন্ন করতে হবে।"
5
7
ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে একটি বাণিজ্য চুক্তির জন্য একটি কাঠামো ঘোষণা করেছে। এই চুক্তি হলে মার্কিন আমদানিকৃত ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক হবে মাত্র ১৮ শতাংশ। এছাড়া ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের অর্থনীতিতে প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত হবে। চুক্তির বিশদ প্রকাশ করার সময়, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় ভারতের একটি মানচিত্রও প্রকাশ করেছে যেখানে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-সহ সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলকে দেশের অংশ হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে। মানচিত্রে আকসাই চীনও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা চীন তার ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।
6
7
যদিও ভারতের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বৈধতার প্রয়োজন নেই, এই পদক্ষেপটি ওয়াশিংটনের দীর্ঘস্থায়ী অনুশীলনের বিচ্যুতি বলে মনে কার হচ্ছে।
7
7
তবে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বৃহত্তর পুনর্নির্মাণের মধ্যে এটা একটা ভুল নাকি সাবধানতার সঙ্গে পুরো বিষয়টি মাপা হচ্ছে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় তার অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলে বিতর্কের অবসান ঘটাতে পদক্ষেপ করেছে।