আজকাল ওয়েবডেস্কঃ জলদূষণ এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন ভারতের তিন তরুণ-তরুণীর। জল থেকে ক্ষতিকর 'মাইক্রোপ্লাস্টিক' (অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা দূর করার) এক সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি উদ্ভাবন করে আন্তর্জাতিক স্তরে 'দ্য আর্থ প্রাইজ ২০২৬' জিতে নিয়েছে তাঁরা। বিজয়ী এই তিন পড়ুয়া— বিভান ছাছড়িয়া, আরিয়ানা আগরওয়াল এবং অ্যাভিয়ানা মেহতা। প্রথম ভারতীয় দল হিসেবে এই বিশ্বসেরা খেতাব অর্জন করে তাঁরা দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে।

 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, এই কৃতি বিজ্ঞানীরা তেঁতুলের ফেলে দেওয়া বীজের গুঁড়ো থেকে একটি সম্পূর্ণ পচনশীল উপাদান তৈরি করেছে। যা জলে থাকা ওই 'মাইক্রোপ্লাস্টিক'-কে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করতে পারে। তাঁদের এই উদ্ভাবনেরই নামকরণ করা হয়েছে 'প্লাস-স্টিক'। সাধারণ ফিল্টারে যে অত্যন্ত ক্ষুদ্র 'মাইক্রোপ্লাস্টিক'গুলি আটকে রাখতে ব্যর্থ হয়, 'প্লাস-স্টিক' কোনওরকম ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই সেগুলোকে সফলভাবে আটকে দিতে সক্ষম।

 

ওই তিন পড়ুয়া একটি বিবৃতি জারি করে বলেন, 'আমাদের পানীয় জলে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা লুকিয়ে থাকে, যা খালি চোখে দেখা যায় না। আমরা ফেলে দেওয়া তেঁতুলের বীজ থেকে একটি বিশেষ পাউডার তৈরি করেছি, যা 'মাইক্রোপ্লাস্টিক'গুলির ক্ষেত্রে চুম্বকের মতো কাজ করে। যখন এই পাউডারটি জলের পাত্রে মেশানো হয়, তখন প্লাস্টিকগুলি একসঙ্গে জমে ছোট দলা তৈরি করে। এরপর আমরা একটি সাধারণ চুম্বকের সাহায্যে সেগুলিকে টেনে বের করে আনি এবং জল পরিষ্কার হয়ে যায়।'

 

তাঁরা আরও জানান, সংগৃহীত এই প্লাস্টিকগুলিকে ফেলে না দিয়ে তা দিয়ে যদি ঘরের টাইলস বা কোস্টারের মতো দরকারি জিনিসপত্র তৈরি করা হয়, তাতে এই প্লাস্টিক পুনরায় প্রকৃতিতে মিশে দূষণ ছড়াতে পারবে না।

 

তরুণদের এই ভাবনার পেছনে রয়েছে এক বাস্তব অভিজ্ঞতা। পড়ুয়ারা জানান, ভারতের একটি গ্রামীণ এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে তাঁরা দেখতে পাম, সেখানকার মানুষ সাধারণত বড় বড় প্লাস্টিকের পাত্রে পানীয় জল জমিয়ে রাখেন। সেখানে একটি শিশুকে কোনওরকম ফিল্টার ছাড়াই সরাসরি সেই পাত্র থেকে জলপান করে। তাতেই তাঁরা স্তম্ভিত হয়ে যান। এই দৃশ্যই তাঁদের ভাবতে বাধ্য করে, গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ প্রতিনিয়ত কতটা 'মাইক্রোপ্লাস্টিক'-এর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যেহেতু ভারতে তেঁতুল অত্যন্ত সহজলভ্য। তাই এই পদ্ধতি ভারতের যেকোনও প্রান্তের মানুষের কাছে যেমন সহজে এবং কম খরচে তৈরি করতে পারবেন।

 

উল্লেখ্য, জলবায়ু এবং পরিবেষের সঙ্কট সমাধানের জন্য তরুণদের উৎসাহিত করতে প্রতি বছর 'দি আর্থ প্রাইজ' বিতরণ করা হয়। চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে সাতটি আঞ্চলিক বিজয়ীদের মধ্যে থেকে চূড়ান্ত 'গ্লোবাল উইনার' বা বিশ্বসেরা নির্বাচন করার জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৩ হাজার মানুষ ভোট দিয়ে এই ভারতীয় দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

 

বিজয়ীরা বলেন, "'দ্য আর্থ প্রাইজ'-এর গ্লোবাল উইনার হয়ে অত্যন্ত খুশি। বিশেষ করে ভারতের প্রথম দল হিসেবে এই সম্মান পেয়ে আমরা গর্বিত।আশা করি, এই জয় 'প্লাস-স্টিক'কে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। তরুণ প্রজন্মও উৎসাহিত হবে, তাঁদের ছোট ছোট ভাবনা পরিবেশের বড় পরিবর্তন আনতে পারে এই ভাবনায়।"