আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ভারতের প্রতি জোরালো সমর্থন ঘোষণা করেছেন। বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় থাকাকালীন ভারত যদি কোনও আক্রমণের শিকার হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সহায়তায় এগিয়ে আসবে।

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে প্রায় ১৬ মাস পর বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রীর মোদি। 'বন্ধু'র সঙ্গে এই আলোচনাকে "খুবই ভাল" বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তখনই তিনি ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে অব্যাহত কৌশলগত সহযোগিতার ইঙ্গিত দেন।হাসি মুখে ট্রাম্প বলেন, "যদি মোদি নেতা (প্রধানমন্ত্রী) থাকেন এবং ভারত আক্রান্ত হয়, তবে আমরা তাদের সাহায্য করতে পাশে দাঁড়াব।"

এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। কারণ নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন, উভয়ই তাদের মধ্যকার টানাপড়েনপূর্ণ সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধ, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের মধ্যস্থতা নিয়ে ট্রাম্পের দাবি, ভারতীয়দের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ওমানের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন সামরিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় এই সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল।

সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠককে "খুবই ভাল" বলে বর্ণনা করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, "ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। এর চেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আর হতে পারে না। তিনি এবং আমি - উভয়েই, এবং আমাদের দেশগুলো। আসলে এর শুরুটা আমাদের দু'জনকে দিয়েই। আমাদের সম্পর্ক এর চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়া সম্ভব নয়।"

প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, "যদি কেউ ওই মানুষটিকে আক্রমণ করে, তবে আমরা তার পাশে দাঁড়াব।" তবে কিছুটা হালকা চালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেন, "অবশ্য যদি নতুন কোনও নেতা আসেন, তবে সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।"

ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্ব ও দরকষাকষির দক্ষতারও প্রশংসা করেন এবং তাঁকে বাণিজ্য আলোচনার ক্ষেত্রে একজন কঠোর প্রতিপক্ষ হিসেবে অভিহিত করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "তিনি একজন কঠোর ব্যবসায়ী (বাণিজ্যিক আলোচনায় আপসহীন)।" তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারতের সমৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। "যতদিন তিনি নেতা থাকবেন, ভারত খুব ভাল করবে।"

উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ট্রাম্প শোক প্রকাশ করেন। ঘটনাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "আমি বিষয়টি শুনেছি। এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি।" ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ হোয়াইট হাউসে প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের পর (যা ছিল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার ঠিক পরের ঘটনা) এই বৈঠকটি ছিল তাঁর ও ট্রাম্পের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। এছাড়া, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র ভারত সফরের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হল, সেই সফরে সাম্প্রতিক টানাপড়েন সত্ত্বেও উভয় পক্ষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছিল।

ভারতের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ-সহ বেশ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য বিদ্যমান থাকলেও, বুধবারের এই বৈঠকটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে  বিষয়ে উভয় পক্ষের অভিন্ন আগ্রহের ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।