আজকাল ওয়েবডেস্ক: পূর্ব হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র গ্লাও লেক। এবার এই সৌন্দর্যমণ্ডিত হ্রদটি দেশের ১০১তম রামসার সাইট-এর স্বীকৃতি পেয়েছে। এটিই অরুণাচল প্রদেশের প্রথম কোনও জলাভূমি যা আন্তর্জাতিক মর্যাদার অধিকারী হল। এমনই খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।

কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব সমাজমাধ্যমে এই খবর জানান। লেখেন, 'এই স্বীকৃতি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জল ও জলবায়ু সুরক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের সুস্থায়ী জীবনযাত্রাকে আরও সুদৃঢ় করবে।' একইসঙ্গে 'এক্স' হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ২০১৪ সালে দেশে রামসার সাইটের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৬টি। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১০১টিতে পৌঁছেছে।

 

অরুণাচলের গ্লাও লেকটি ওয়াক্রো থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই হ্রদে পৌঁছনোর একমাত্র উপায় ট্রেকিং। ফলে যাঁরা অপরিচিত জায়গায় ট্রেকিং করতে যেতে ভালবাসেন, তাঁদের জন্য এটি এক আকর্ষণীয় জায়গা। হ্রদটি কামলাং ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির অন্তর্ভুক্ত। এখানে চারপাশে যেমন ঘন জঙ্গল রয়েছে। তেমনি ১৫০টিরও বেশি প্রজাতির গাছ এবং ৪৯ প্রজাতির অর্কিডের সন্ধানও পাওয়া যায়। এছাড়া এখানে হাতি, চিতা বিড়াল, হরিণ, বিশাল কাঠবিড়ালি-সহ নানা ধরনের বন্যপ্রাণীও দেখতে পাওয়া যায়। এই হ্রদের পাশেই বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র পরশুরাম কুণ্ডের অবস্থান।

 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি গ্লাও লেক-কে নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা লোককথাও। সেখানকার মিশমি উপজাতির বিশ্বাস, এই হ্রদে চারজন দেবতা (দু'জন মেয়ে এবং দু'জন ছেলে) বাস করেন। তাঁরাই হ্রদ ও পরিদর্শকদের রক্ষা করেন। স্থানীয়দের আরও বিশ্বাস, এই হ্রদে কেউ কখনও জলে ডুবে মারা যেতে পারে না। তাছাড়া, চারদিকে ঘন জঙ্গল থাকায় হ্রদের জল সবসময় পাতা ও জঞ্জালমুক্ত থাকে। বহু পর্যটকদের মতে, প্রথমবার এই হ্রদে গেলে নাকি সামান্য হলেও বৃষ্টির সম্মুখীন হতে হয়। গ্লাও লেক ভ্রমণের ক্ষেত্রে আদর্শ সময় অক্টোবর থেকে এপ্রিল মাস। সেই সময়ে আবহাওয়া অনুকূল থাকে।