আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাল ও ভেজাল দুগ্ধজাত পণ্যের কারবার রুখতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিল মহারাষ্ট্র সরকার। রাজ্যজুড়ে এনালগ বা কৃত্রিম পনির তৈরি এবং বিক্রির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ছত্তিশগড়ের পর মহারাষ্ট্রই দেশের দ্বিতীয় রাজ্য, যেখানে অ-দুগ্ধজাত এই কৃত্রিম পনিরের ওপর এমন চরম আইনি নিষেধাজ্ঞা চাপানো হল। সরকারের এই নতুন নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা কমিশনার তুকারাম মুন্ডের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে এনালগ পনিরের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, মজুত, পরিবহন, পাইকারি ও খুচরো বিক্রি—সমস্ত কিছুতেই পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হয়েছে। 'ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্ট, ২০০৬'-এর অধীনে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এমনকি কোনও ভেজাল খাবার খেয়ে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা জরিমানার মতো কঠোর ব্যবস্থার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)। কৃত্রিম পনিরকে খাঁটি দুগ্ধজাত পনির হিসেবে চালিয়ে বিক্রি করাকে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং অসৎ ব্যবসা হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
সাধারণত দুধের ফ্যাটের বদলে উদ্ভিজ্জ তেল বা ফ্যাট এবং অন্যান্য কৃত্রিম উপাদান মিশিয়ে এই এনালগ পনির তৈরি করা হয়। দেখতে আসল পনিরের মতো হলেও পুষ্টিগুণ ও মানের দিক থেকে এটি সম্পূর্ণ আলাদা। ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মানক কর্তৃপক্ষের (FSSAI) নিয়ম অনুযায়ী, দুগ্ধজাত পনির কেবল দুধ থেকেই তৈরি হতে হবে, তাতে কোনও স্টার্চ বা কৃত্রিম তেল মেশানো চলবে না। যদিও প্যাকেটে স্পষ্ট উল্লেখ রেখে কৃত্রিম পনির বিক্রির অনুমোদন এফএসএসএআই দেয়, তবুও খোলা বাজারে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে এটি বিক্রির অভিযোগ উঠছিল দীর্ঘদিন ধরে। বিগত বছর মহারাষ্ট্র বিধানসভাতেও এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বিধায়করা।
চলতি বছরের মে মাস থেকে মহারাষ্ট্রজুড়ে ভেজাল দুধ ও পনিরের বিরুদ্ধে যে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে, জুলাইয়ের শেষে জারি হওয়া এই আদেশ তারই অংশ। সম্প্রতি পুণের মাঞ্জরি খুর্দের একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১,৪০০ কেজি কৃত্রিম পনির বাজেয়াপ্ত করে প্রশাসন। সেই সঙ্গেই উদ্ধার হয় ১,৮০০ কেজি স্কিমড মিল্ক পাউডার, ৭১৮ লিটার পাম তেল এবং ক্ষতিকারক রাসায়নিক রাসায়নিক পাউডার। এই বিপুল পরিমাণ ভেজাল চক্র উন্মোচিত হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে খাদ্যের মান বজায় রাখতে এই কড়া পদক্ষেপে সিলমোহর দিল সরকার।
















