আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যস্ত স্ত্রী। কাজের অজুহাতে ঘর থেকে বেরিয়েই আর কোনও সাড়াশব্দ নেই। শেষমেশ ভরা রাস্তায় প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীকে হাতেনাতে ধরলেন স্বামী। প্রকাশ্য দিবালোকে জনসমক্ষে স্বামী ও স্ত্রীর তুমুল ঝামেলায় চোখ ছানাবড়া সকলের। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, হাপুর জেলায় গতকাল শনিবার ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীকে ফষ্টিনষ্টি করতে দেখে ফেলেন স্বামী। প্রেমিকের সঙ্গে বাইকে করে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন স্ত্রী। হাতেনাতে দু'জনকে ধরে ফেলেন তিনি। 

 

স্ত্রীর পরকীয়া ফাঁস হতেই ভরা রাস্তায় তিনজনের মধ্যে তুমুল অশান্তি শুরু হয়। রাস্তায় নিমেষের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে যান। যানজটের সৃষ্টিও হয়। স্ত্রীকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এমনকী তিনজনেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ঝগড়া করছিলেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। 

 

মিরাট রোড ব্রিজে ঝামেলার খবর পেয়েই পুলিশ তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছয়। তিনজনকেই থানায় নিয়ে আসে তারা। তিনজনের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। 

 

গত ডিসেম্বরে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল এই রাজ্যেই। বাগদানের পরে ফষ্টিনষ্টি যুবকের। দিন কয়েক পরেই জানতে পারেন তরুণী। তুমুল অশান্তি এড়াতে নতুন প্রেমিকার সঙ্গে মিলে হবু স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করলেন যুবক। বড়দিনের আবহে হাড়হিম হত্যাকাণ্ড যোগীরাজ্যে। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে‌। পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ বছর বয়সি এক তরুণীকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। প্রমাণ লোপাটের জন্য তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় তাঁর হবু বর, তাঁর প্রেমিকা এবং প্রেমিকার মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

 

পুলিশ আধিকারিক বিকাশ কুমার আরও জানিয়েছেন, বলরামপুরের লাদিহ হুসেইনাবাদ গ্র্যান্ট এলাকার বাসিন্দা ১৮ বছরের শালিমুণীশ। কয়েক মাস আগে গোন্দা জেলার বাসিন্দা ২২ বছরের ইমরানের সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল তরুণীর। 

 

বাগদানের পরেই সাকিনা নামের আরেক তরুণীর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ শুরু হয় ইমরানের। ক্রমেই সাকিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দিন কয়েক পরেই এই সম্পর্কের কথা জানতে পারেন শালিমুণীশ। তখনই শুরু হয় ঝামেলা। 'পথের কাঁটা' শালিমুণীশকে সরাতেই খুনের পরিকল্পনা করেন ইমরান ও সাকিনা। 

 

গত মঙ্গলবার শালিমুণীশকে ঘরে ডাকেন সাকিনা। যেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন ইমরান। দু'জনে মিলে সেদিন শালিমুণীশকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। প্রমাণ লোপাটের জন্য ইমরান, সাকিনা ও সাকিনার মা তরুণীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেন। এরপর দেহটি জ্বালিয়ে দেন। আত্মহত্যার ঘটনা বলেও শেষরক্ষা হয়নি। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। তিন অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করেছে তারা।