আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ওঠানামার মধ্যেই সোনার দামে জোরালো ভাব দেখা গেল। স্পট গোল্ড ১.২% বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪,৯৭৯.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
2
14
সপ্তাহের হিসাবে এখনও পর্যন্ত হলুদ ধাতুটি প্রায় ০.৪% লাভে রয়েছে। অন্যদিকে, এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচার্স ১% উঠে আউন্সপ্রতি ৪,৯৯৮.৩০ ডলারে পৌঁছেছে।
3
14
তবে এর আগের সেশন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্রের। বৃহস্পতিবার সোনার দর প্রায় ৩% পড়ে এক সপ্তাহের কাছাকাছি সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। গুরুত্বপূর্ণ ৫,০০০ ডলারের সাপোর্ট লেভেল ভেঙে যাওয়ার পর বিক্রির চাপ তীব্র হয়।
4
14
ইকুইটি বাজারে ধস নামার প্রভাবও পড়ে কমোডিটি সেগমেন্টে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় রাউন্ড ফিগার বা মনস্তাত্ত্বিক স্তর ভাঙলে বাজারে অস্থিরতা দ্রুত বাড়ে।
5
14
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোলাটিলিটি অত্যন্ত বেশি। ৫,০০০ ডলারের মতো বড় স্তর ভেঙে গেলে পজিশনিংয়ে দ্রুত পরিবর্তন আসে এবং মূল্য ওঠানামা আরও ত্বরান্বিত হয়।
6
14
শুধু সোনা নয়, রূপোর বাজারেও তীব্র দোলাচল দেখা গেছে। স্পট সিলভার ৪.৬% বেড়ে আউন্সপ্রতি ৭৮.৫৯ ডলারে উঠেছে।
7
14
আগের দিন রূপোর দর ১১% পর্যন্ত পড়ে গিয়েছিল, ফলে এই উত্থান অনেকটাই রিবাউন্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।
8
14
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে, ভোক্তা মূল্যসূচক প্রকাশের আগে বাজারে সতর্কতা বাড়ছে।
9
14
সম্প্রতি প্রকাশিত চাকরির তথ্য ইঙ্গিত দিয়েছে যে মার্কিন শ্রমবাজার প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই স্থিতিশীল। এর ফলে ধারণা জোরালো হয়েছে যে সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচুতে থাকতে পারে।
10
14
সুদের হার এবং সোনার দামের মধ্যে সাধারণত উল্টো সম্পর্ক দেখা যায়। সুদের হার বেশি থাকলে বন্ড ও অন্যান্য সুদ-উৎপাদক সম্পদ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
11
14
ফলে সোনার মতো নন-ইন্টারেস্ট-বেয়ারিং সম্পদের চাহিদা কমে। এই কারণেই চাকরির তথ্য প্রকাশের পর সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল।
12
14
তবে বাজারে এখনও আশা রয়েছে যে চলতি বছরে অন্তত দুই দফা ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে সুদ কমাতে পারে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ। প্রথম কাট বছরের মাঝামাঝি হতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা মূল্য নির্ধারণ করছেন। আসন্ন CPI ডেটা এই প্রত্যাশাকে জোরদার বা দুর্বল—দুই-ই করতে পারে।
13
14
এদিকে, এশিয়ার শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতা থেকে পিছিয়েছে। প্রযুক্তি খাতে মার্জিন কমার আশঙ্কা এবং বড় কোম্পানিগুলির শেয়ারে চাপ পড়ায় বিনিয়োগকারীদের মনোভাব সতর্ক হয়ে উঠেছে। এর প্রভাবও কমোডিটি বাজারে পড়েছে।
14
14
সব মিলিয়ে, সোনার বাজারে অস্থিরতা আপাতত কমার লক্ষণ নেই। ৫,০০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক স্তরের আশেপাশে দর ঘোরাফেরা করায় স্বল্পমেয়াদে তীব্র ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর একটাই—মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির তথ্য, যা নির্ধারণ করবে সুদের হার এবং সোনার পরবর্তী দিকনির্দেশ।