আজকাল ওয়েবডেস্ক: দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য স্থগিত থাকা সত্ত্বেও, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পণ্য আদান-প্রদান বন্ধ হয়নি—চলছে বিকল্প পথে, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জানুয়ারির মধ্যে পাকিস্তানে ভারতের রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৪৪৭.৭ মিলিয়ন ডলারের, আর আমদানি মাত্র ৪.২ লাখ ডলারের। অথচ গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিটিআরআই (GTRI) জানিয়েছে, তৃতীয় দেশ যেমন সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে, সিঙ্গাপুর বা শ্রীলঙ্কার মাধ্যমে প্রতিবছর ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ভারতীয় পণ্য পাকিস্তানে পৌঁছে যাচ্ছে।

এই ছায়া বাণিজ্যের মূল কৌশল হল—ভারত থেকে পণ্য প্রথমে দুবাই বা কলম্বোর মতো হাব-এ পাঠানো হয়। সেখান থেকে ‘নতুন দেশ’ হিসেবে রপ্তানি হয় পাকিস্তানে। মূলত ওষুধ, প্লাস্টিক, চা–কফি, রাসায়নিকের মতো পণ্যই চলাচল করে এই পথে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে বাণিজ্য বেড়ে চললেও এতে খরচ বাড়ছে, বিশেষত পাকিস্তানের ওষুধ শিল্পে প্রভাব পড়ছে, যার বেশিরভাগ কাঁচামাল আসে ভারত থেকেই। স্থলপথে ওয়াঘা–অটারি সীমান্ত বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি ও আফগান ট্রানজিট ট্রেডও ক্ষতিগ্রস্ত।

দুই দেশই এই 'ছায়া বাণিজ্যের' বিষয়ে ওয়াকিবহাল, এবং নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে। তবে ‘রুলস অফ অরিজিন’ যাচাই ও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এই বাণিজ্য পরিচালিত হওয়ায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কঠিন।

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বারবার বন্ধ–চলু অবস্থায় থাকা ভারত–পাক বাণিজ্য আজ আবার এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। তবে অর্থনৈতিক স্বার্থই দেখাচ্ছে, কূটনীতি যেখানে থেমে যায়, সেখানেও বাণিজ্য নিজের রাস্তা খুঁজে নেয়।