আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় সংবিধানের দশম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত দলত্যাগ বিরোধী আইনের মতো রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এবং প্রায়শই বিতর্কিত নিয়ম খুব কমই আছে। আজ সেই কাঠামোটি পরীক্ষার সম্মুখীন হল, যখন রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে আম আদমি পার্টির (আপ) রাজ্যসভার সদস্যদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দলত্যাগের ঘোষণা করেন এবং এমন একটি সাংবিধানিক সুরক্ষার উপর আলোকপাত করেন যা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যাগত সীমার উপর নির্ভরশীল- দুই তৃতীয়াংশ।
১৯৮৫ সালে ৫২তম সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে দলত্যাগ বিরোধী আইনটি পদ বা ক্ষমতার লোভে রাজনৈতিক দলত্যাগ রোধ করার জন্য প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই নিয়মে দল পরিবর্তনের জন্য সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে। তবে, আইনটিতে একটি ছাড়ের ব্যবস্থাও আছে। তা হল অন্য দলে মিশে যাওয়া। এই নিয়ম অনুসারে, কোনও রাজ্যসভা সদস্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না, যদি তাঁর মূল রাজনৈতিক দল অন্য কোনও দলের সঙ্গে মিশে যায় এবং তিনি মিশে যাওয়ার পরে গঠিত নতুন দলে যোগ দেন অথবা একটি পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।
সংবিধানের দশম তফসিলে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোনও মিশে যাওয়া বৈধ বলে গণ্য হবে, ‘যদি এবং কেবল যদি সংশ্লিষ্ট দলের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য এই মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্তে সম্মত হন।”
৩৭ বছর বয়সী রাঘব যদি একা বা কোনো ছোট দলের অংশ হিসেবেও পদত্যাগ করতেন, তাহলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অযোগ্য ঘোষিত হতেন। তাঁর রাজ্যসভার সদস্যপদ নিয়েও টানাটানি শুরু হয়ে যেত। এর পরিবর্তে, আপের রাজ্যসভা সাংসদদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ যাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেন তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে, দলটি নিজেদেরকে দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে রক্ষা করেছে।
রাঘব তাঁর সিদ্ধান্তকে কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আপ-এর দশজন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে সাতজন দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই দলে রয়েছেন রাঘব, স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তল, রাজিন্দর গুপ্ত এবং বিক্রম সাহনি।
রাঘব, অশোক এবং সন্দীপ ২০২২ থেকে আপের রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাঘব বলেন, “আম আদমি পার্টি, যাকে আমি আমার রক্ত দিয়ে লালন করেছি এবং যার জন্য আমার যৌবনের ১৫ বছর দিয়েছি, সে এখন তার নীতি, মূল্যবোধ এবং নৈতিকতা থেকে সম্পূর্ণ সরে গিয়েছে। দলটি আর দেশের জন্য কাজ করছে না, বরং ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজ করছে।”
সম্প্রতি আপ তাঁকে রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাঘব এবং আপের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা থেকে তাঁকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে দল। আপ দাবি করেছিল, তিনি দলীয় অবস্থান মেনে চলছিলেন না এবং তুলনামূলকভাবে ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’ ইস্যু নিয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন।
২০১২ সালে আপ প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আপের সঙ্গে ছিলেন এবং কেজরিওয়ালের একজন বিশ্বস্ত লেফটেন্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন। যিনি দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের জোয়ারে ভর করে ২০১৫ সালে দিল্লিতে বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এসেছিলেন।
















