আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়া জুড়ে প্রবল উত্তেজনার আবহে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের জাতীয় পতাকাবাহী দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার।
তবে সরকারি ভাবে তরফে এখনও একথা ঘোষণা করা হয়নি। জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
তবে ইঙ্গিত মিলছে, সাময়িক বিরতির পর ফের হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল শুরু হতে পারে। বর্তমানে উত্তেজনার কারণে শতাধিক জাহাজ সমুদ্রে নোঙর করে অপেক্ষা করছে।
ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তেহরানের তরফে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলির ওপরেই হামলা হতে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলপিজি গ্যাস জাহাজ মারফত এই পথ দিয়েই যাতায়াত করে। শুক্রবারে দেখা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কোনও তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেনি।
তথ্য অনুযায়ী, একটি খালি তেলবাহী জাহাজ, যা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল, ১৮ মার্চ দিক পরিবর্তন করে ইরানের জলসীমার দিকে ফিরে যায়। এই পরিস্থিতিতে ‘পাইন গ্যাস’ ও ‘জাগ বসন্ত’ নামে এলপিজি বহনকারী দুটি ভারতীয় জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে।
তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী হয়ে জাহাজদুটি ভারতের দিকে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই ট্যাঙ্কার দুটি শনিবারেই যাত্রা শুরু করতে পারে।
যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা হয়নি। সাম্প্রতিক ঘটনায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং এই অঞ্চলে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াতের ওপর জোর দিয়েছে।
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ভারতের ২২টি জাহাজের নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচলের পক্ষে ভারত। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বিষয়ে বিশ্বের একাধিক নেতাদের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছেন।
‘জাগ বসন্ত’ জাহাজটি ভারত পেট্রোলিয়াম সংস্থা ভাড়া নিয়েছে বলে খবর মিলেছে। অন্যদিকে, ‘পাইন গ্যাস’ পরিচালনা করছে ভারতীয় তেল সংস্থা। যদিও এই দুই সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে ইরান দুটি ভারতীয় গ্যাসবাহী জাহাজকে প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। ফলে, কিছু ক্ষেত্রে বিশেষভাবে অনুমতি নিয়ে চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে বলেই জানা গিয়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানগামী একটি জাহাজও এই পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও সীমিত আকারে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে ভারতীয় দুটি ট্যাঙ্কারের সম্ভাব্য যাত্রার দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
