আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা সহ তিন সাংসদ। এরপরেই তাঁদের তীব্র আক্রমণ করেছে আপ।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের অভিযোগ, ‘ভারতীয় জনতা পার্টি ‘অপারেশন লোটাস’ চালিয়ে তাদের রাজ্যসভার সাতজন সাংসদকে দলে টেনেছে।
এদিন দিল্লিতে কেন্দ্রের শাসক দলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং। নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে ভয় দেখিয়েই দলবদল করাতে বাধ্য করা হয়েছে সাংসদদের।
তাঁর আরও অভিযোগ, এই একই কায়দায় ভগবন্ত মানের পাঞ্জাব সরকারকেও উপড়ে ফেলার চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, ‘অপারেশন লোটাস’ শব্দবন্ধটি ভারতীয় রাজনীতিতে ব্যবহৃত হয় বিরোধী শাসিত সরকার ভাঙার ক্ষেত্রে দলবদল করানোর অভিযোগ বোঝাতে।
অন্যদিকে, প্রাক্তন আপ নেতা রাঘব চাড্ডা ঘোষণা করেছেন, যে তিনি আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, আপের রাজ্যসভার দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ সাংবিধানিক বিধান মেনে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজ্যসভায় মোট ১০ জন আপ সাংসদ ছিলেন। চাড্ডার পাশাপাশি সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তল, স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং সহ আরও দুই সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই ঘটনাকে আপের অন্দরে বড়সড় ভাঙন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি রাঘব চাড্ডাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় পদ থেকে সরানোকে কেন্দ্র করে দলের ভিতরে উত্তেজনা বাড়ছিল।
তার কিছুদিনের মধ্যেই এই দলবদলের ঘটনা ঘটল। সঞ্জয় সিং বলেন, ‘পাঞ্জাবের মানুষ এই সাংসদদের বিপুল সমর্থন দিয়ে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন। অথচ তারা বিজেপিতে যোগ দিলেন। পাঞ্জাবের মানুষ এই বিশ্বাসঘাতকতাকে ক্ষমা করবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ‘অপারেশন লোটাস’-এর জবাব পাঞ্জাবের মানুষই দেবে।’ পরিসংখ্যান বলছে, এই ভাঙনের ফলে রাজ্যসভায় আপের সাংসদের সংখ্যা কমে দাঁড়াল মাত্র তিনে। পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের এক বছরেরও কম সময় আগে এই ঘটনায় তোলপাড় হয়ে গিয়েছে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।















