আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঝুলিতে পিএইচডি, বিএড-সহ একাধিক ডিগ্রি। চুক্তির ভিত্তিতে পড়ান একটি কলেজেও। তা সত্ত্বেও পরিবার চালাতে অন্য পেশার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা এবং যোগ্যতার চরম শিখরে পৌঁছেও এমনই জীবনসংগ্রামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ড. ই তিরুমালাই রাজাকে। চেন্নাইয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রেসিডেন্সি কলেজে চুক্তির ভিত্তিতে শিক্ষকতা করেন তিনি। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল এই খবর।

 

জানা গিয়েছে, কলেজে শিক্ষকতার পর পরিবারের মুখে অন্ন জোগাতে তাঁকে ট্যাক্সি চালাতে হচ্ছে। সমাজমাধ্যমের এই খবর ভাইরাল হতেই নেটপাড়ায় শোরগোল পড়ে যায়। ওঠে প্রতিবাদের ঝড়ও। 'ইন্ডিয়ান রেলওয়ে অ্যাকাউন্টস সার্ভিস'-এর প্রবীণ আধিকারিক অনন্ত রূপনগুড়ি নিজের 'এক্স' হ্যান্ডেলে রাজার জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। আবেদন জানান, শিক্ষামহলের কাছে তাঁর স্থায়ী চাকরির জন্য।

 

ড. রাজা ইংরেজি সাহিত্যে পিএইচডি, এমফিল, এমএ, সাইকোলজিতে এমএসসি, শিক্ষাবিজ্ঞানে বিএড এবং ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন। পাশাপাশি একজন দক্ষ সম্পাদক, মোটিভেশনাল স্পিকার এবং কমিউনিকেশন স্কিল ট্রেনার হিসেবেও কাজ করেছেন। মূল বক্তা হিসাবে ডিজিটাল হিউম্যানিটিজ ও ইংরেজি কমিউনিকেশনের মতো বিষয়ে যোগ দিয়েছেন একাধিক আন্তর্জাতিক সেমিনারে।

 

এ ছাড়াও, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত একটি স্থায়ী অধ্যাপক পদ পাননি ড. রাজা। এর আগে নামাক্কালের একটি কলেজে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে কাজ করেছেন। সেই সময়ে তাঁর মাত্র ২০,০০০ টাকা বেতন ছিল। বর্তমানে চেন্নাইয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি চুক্তিভিত্তিক লেকচারার হিসেবে মাসিক বেতন পান মাত্র ৩০,০০০ টাকা।

 

বর্তমানে এই যৎসামান্য আয়ে তাঁর পক্ষে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড. রাজার স্ত্রী ও দুই সন্তান নামাক্কালে বসবাস করেন। এদিকে তিনি চাকরির সূত্রে থাকেন চেন্নাইয়ে। দুই বাড়ির খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনার টানাপোড়নে বাধ্য হয়েই ফাঁকা সময়ে তিনি 'কল ট্যাক্সি' চালাতে বাধ্য হন।

 

সমাজমাধ্যমে অনন্ত রূপনগুড়ির পোস্টের পর নেটনাগরিকেরা তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বলছেন, ড. রাজার এই গল্প শুধুমাত্র কোনও এক ব্যক্তির লড়াই নয়, বরং ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার চরম অন্ধকার দিককেই তুলে ধরে। অনেকেরই অভিযোগ, দেশের হাজার হাজার উচ্চশিক্ষিত মানুষ চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকতার কাজ করে চলেছেন। যেখানে না রয়েছে উপযুক্ত বেতন, না রয়েছে চাকরির নিরাপত্তা। ড. রাজার এই কাহিনী ভারতের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের দুর্দশা এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপকেই ফের একবার সামনে নিয়ে এল।