গোপাল সাহা: দেশের সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য নিয়ে যাতে সমস্যায় না পড়েন এবং চিকিৎসার জন্য আর্থিক কারণে চিন্তামুক্ত থাকেন সেই কথা ভেবেই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুভ সূচনা করেছিলেন এই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ নামক স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প।
2
11
২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (AB-PMJAY) চালু হয়। মোদি এই প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।
3
11
এই প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলি বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পেয়ে থাকেন।
4
11
পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যবিমা চালু করেছিলেন তার প্রায় দু’বছর আগেই। ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বরে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করেছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
5
11
সেক্ষেত্রে বেশ কিছু বাধা-বিপত্তি ছিল চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার জন্য। সব রোগের জন্য যেমন এই স্বাস্থ্যসাথীর গ্রহণযোগ্যতা ছিল না, একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের সুবিধা মিলত শুধু পশ্চিমবঙ্গেই। দেশব্যাপী নয়।
6
11
ফলে সাধারণ মানুষকে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হত স্বাস্থ্যসাথী আওতাভুক্ত সাধারণ নাগরিকদের। আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক স্বাস্থ্যসাথী এবং আয়ুষ্মান ভারতের মধ্যে মূল পার্থক্য কী কী?
7
11
স্বাস্থ্যসাথী শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আয়ুষ্মান ভারতের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সারা দেশের যে কোনও হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে।
8
11
স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে সব রোগের চিকিৎসা হতো না। আয়ুষ্মান ভারতের সমস্ত রোগের ক্ষেত্রেই চিকিৎসা হওয়া সম্ভব। প্রায় সব রোগের চিকিৎসা এর মধ্যে যুক্ত করা রয়েছে।
9
11
স্বাস্থ্যসাথী শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের দ্বারা স্বীকৃত। অন্যদিকে, কেন্দ্রের অনুমোদিত। বেসরকারি হাসপাতালেও এর সুবিধা মেলে।
10
11
স্বাস্থ্যসাথী সমস্ত শ্রেণীর মানুষের জন্য প্রযোজ্য ছিল। আয়ুষ্মান ভারত মূলত দারিদ্র-সীমার নীচে বা দরিদ্র মানুষদের জন্য এবং অনূর্ধ্ব ৭০ বছরের মানুষের জন্য প্রযোজ্য।
11
11
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আয়ুষ্মান ভারত যোজনা বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে দু’টি প্রকল্পের মধ্যে একটি রূপান্তর চলছে। বর্তমান স্বাস্থ্যসাথীর গ্রাহকদের আয়ুষ্মান ভারত ডাটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। যাতে তাঁদের পরিষেবা অব্যাহত থাকে এবং সারা ভারতে হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধা মেলে।