আজকাল ওয়েবডেস্ক: চিকিৎসক। এক সময়ে চিকিৎসা করেছেন বহু মানুষের। কিন্তু তারপর একটা সময়ে বদলে যায় গোটা ছবিটা। এখন চিকিৎসা করা দূর, নিজের ঘরের এক কোনে বন্দি। আঠারো মাস ধরে তিনি নিজের জামাটুকুও বদলাননি। ঘটনাটি হরিয়ানার। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুসারে তথ্য, হরিয়ানার সমাজসেবী সংস্থা, এক বৃদ্ধকে তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে।
ইতিমধ্যে ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন। তবে ওই ভিডিওতে যে দেখানো হয়েছে, তাতে হতবাক নেটিজেনরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই ধরনের একটি বিষয়, ঘটনা, কীভাবে দিনের পর দিন পড়শিদের এবং অন্যান্যদের চোখ এড়িয়ে যায়। জানা গিয়েছে, সে রাজ্যের কার্ণালের এক বাড়ি থেকে ওই চিকিৎসককে উদ্ধার করা হয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, স্থানীয় একটি সমাজকল্যাণ সংস্থা মীরা ঘাটি চকের কাছে তাঁর বাড়িতে অত্যন্ত করুণ অবস্থায় একা বসবাসকারী একজন বয়স্ক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসককে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লিখিত, আপনা আশিয়ানা সংস্থার সদস্য রাজ কুমার অরোরা জানিয়েছেন,ওই চিকিৎসক এক সময় যথেষ্ট স্বচ্ছল পরিবারের সদস্য ছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
সংস্থাটি ওই চিকিৎসকের স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা সকলেই অষ্ট্রেলিয়ায় বসবাস করেন। জানা গিয়েছে, ওই সংস্থা যোগাযোগ করা হলে, সাফ জানিয়ে দেয়, ওই ব্যক্তি মানসিকভাবে স্থিতিশীল নন এবং সেই কারণেই তাঁর স্ত্রী-সন্তানরা আলাদাভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই বাসভবনে চিকিৎসকের দেখভালের জন্য একজনকে নিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানান তাঁরা। সোশ্যাল ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ওই ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা কোনওরকমের বাড়ি থেকে বের করে আনছেন। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি প্রায় দেড় বছর নিজের পোশাকটুকুও পরিবর্তন করেননি। ওই ঘর দীর্ঘদিন অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে ভিডিওতে।
ভিডিওটি সাড়া ফেলেছে নেটিজেনদের মধ্যে। বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী এই পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, 'বাবা-মায়ের চেয়ে বড় কোনও সম্পদ নেই। জীবন বাঁচানো থেকে শুরু করে কর্ণালে নিজের বাড়িতে ভুলে যাওয়া- এটি কেবল অবহেলা নয়, এটি একটি নৈতিক ব্যর্থতা। বিদেশে সাফল্যের কোনও অর্থ নেই যদি এটি বাড়িতে মর্যাদা ত্যাগ করে। একটি সমাজ তার প্রবীণদের সাথে কীভাবে আচরণ করে তা দ্বারা বিচার করা হয়। উদ্ধারের জন্য ধন্যবাদ।' আরেকজন বললেন, “তথাকথিত ছেলেমেয়েরা কি জানত না যে তাদের বৃদ্ধ বাবা বাড়িতে একা আছেন?” অপর একজন ওই চিকিৎসকের সন্তানদের কটাক্ষ করে বলেছেন, 'অস্ট্রেলিয়ায় থাকার অর্থ কী? যদি আপনি নিজের বাবা-মায়ের যত্ন নিতে না পারেন?'
