আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ২০২৬ সালে ভারতে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বর্ষা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বড় কারণ হতে পারে এল নিনো। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এই পরিস্থিতি কিছু নির্দিষ্ট খাতের কোম্পানির আয় বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। 


সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে ভারতে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের পর এবার বর্ষা সিজনে এল নিনোর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা বর্ষা এল নিনোর প্রভাবে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়।


সাধারণভাবে বৃষ্টির ঘাটতি গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু যদি বৃষ্টির ঘাটতি মাঝারি মাত্রার হয়—ধরা যাক প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ—তাহলে কিছু নির্দিষ্ট শিল্পখাতের কোম্পানির আয় বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব ব্যবসা গ্রীষ্মকালীন চাহিদার উপর নির্ভরশীল, সেগুলি লাভবান হতে পারে।


এল নিনো কী?
এল নিনো হল একটি জলবায়ুজনিত ঘটনা, যেখানে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরণ বদলে যায়।


ভারতের ক্ষেত্রে এল নিনোর প্রভাব সাধারণত কম বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে দেখা যায়। গত ২৫ বছরের তথ্য অনুযায়ী, এল নিনো ঘটনার সময় ভারতে গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃষ্টির ঘাটতি দেখা গেছে।


বিদ্যুতের চাহিদা কেন বাড়ে?
বৃষ্টির ঘাটতি হলে সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। এর প্রধান দুটি কারণ রয়েছে।
প্রথমত, কৃষিক্ষেত্রে সেচের জন্য বেশি পরিমাণে জল তুলতে হয়। এর জন্য কৃষকদের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়, বিশেষ করে পাম্প চালানোর জন্য।


দ্বিতীয়ত, তাপমাত্রা বেশি থাকলে বাড়িঘর, অফিস এবং দোকানে কুলিং যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যায়। ফলে এয়ার কন্ডিশনার, কুলার ও ফ্যানের ব্যবহার বাড়ে এবং বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পায়।


এই পরিস্থিতি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর জন্য ইতিবাচক হতে পারে। একই সঙ্গে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান ও অন্যান্য গ্রীষ্মকালীন ইলেকট্রনিক পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর বিক্রিও বাড়তে পারে।


কোন খাত লাভবান হতে পারে?
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য কম বর্ষার পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে লাভবান হতে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণকারী সংস্থা, কুলিং অ্যাপ্লায়েন্স প্রস্তুতকারী কোম্পানি এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত ব্যবসা।


এই ধরনের পরিস্থিতিকে বাজারে অনেক সময় “সামার প্লে” বলা হয়, অর্থাৎ এমন ব্যবসা যেগুলোর আয় গরম আবহাওয়ার সময় বাড়ে। বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যেই এমন কিছু কোম্পানির দিকে নজর দিতে শুরু করেছেন যাদের ব্যবসা গরম আবহাওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।


তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্ষা দুর্বল হলে কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ চাহিদার উপর চাপ পড়তে পারে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবুও যদি বৃষ্টির ঘাটতি সীমিত মাত্রায় থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ ও কুলিং পণ্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর জন্য এটি আয় বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।