আজকাল ওয়েবডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১৮ এপ্রিলের 'জাতির উদ্দেশে ভাষণ' নিয়ে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণকে সরাসরি নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘন হিসেবে দেগে দিয়ে এবার সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া চিঠি লিখলেন সিপিআই-এর রাজ্যসভা সাংসদ তথা দলনেতা সন্তোষ কুমার পি.।

সাংসদ সন্তোষ কুমারের মূল অভিযোগ হল, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে উন্নয়নের খতিয়ানের আড়ালে আসলে বিরোধী দলগুলিকে কড়া ভাষায় নিশানা করেছেন। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসের মতো দলগুলিকে আক্রমণ করে তিনি ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি বাম সাংসদের। চিঠিতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দূরদর্শন এবং সংসদ টিভির মতো রাষ্ট্রায়ত্ত মাধ্যম ব্যবহার করে এই ধরণের রাজনৈতিক প্রচার চালানো কার্যত সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং এর ফলে ভোটের ময়দানে সব দলের জন্য সমান সুযোগের বিষয়টি লঙ্ঘিত হচ্ছে।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলিতে ভোটগ্রহণ দোরগোড়ায় এবং সেখানে আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের সময় কোনও  রাজনৈতিক দল বা সরকার প্রচারের জন্য সরকারি পরিকাঠামো বা মাধ্যমকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা চিঠিতে সাংসদ লিখেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পক্ষপাতদুষ্ট বক্তব্যে ঠাসা। জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমগুলিতে এটি প্রচার করা নির্বাচনী নিয়মের একটি গুরুতর বিচ্যুতি। তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, নির্বাচন কমিশন যদি এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং সীমানা নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন নিয়ে বিরোধীদের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিরোধীদের ভূমিকাকে 'কন্যা ভ্রূণহত্যা'র মতো চরম অপরাধের সঙ্গে তুলনা করে এক নজিরবিহীন আক্রমণ শানান। বিশেষ করে যে রাজ্যগুলিতে বিজেপি ক্ষমতা দখলের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে, সেখানে বিরোধীদের নাম করে এই ধরণের ভাষণ অত্যন্ত পরিকল্পিত বলেই মনে করছে বিরোধী শিবির। এখন দেখার, সিপিআই সাংসদের এই চিঠির প্রেক্ষিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও  তদন্ত শুরু করে কি না, নাকি এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও দীর্ঘায়িত হয়।