আবু হায়াত বিশ্বাস, ভোপাল: বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ থেকেই শুরু হচ্ছে কংগ্রেসের ‘কিসান সম্মেলন’। মঙ্গলবার দুপুরে ভোপালে দেশের কৃষকদের বার্তা দিতে তৈরি মঞ্চ। ভারত-মার্কিন অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াবেন কংগ্রেস নেতারা। বাণিজ্য চুক্তিতে দেশের অন্নদাতা কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন বলে দাবি দলের নেতাদের। ইতিমধ্যেই হাত শিবির এই ইস্যুতে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তারই অঙ্গ হিসেবে প্রথমেই কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের রাজ্যে কিসান সম্মেলনের আয়োজন করেছে কংগ্রেস। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ শুরু হবে এই সম্মলেন। মধ্যপ্রদেশ ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলি থেকে কৃষকরা ভোপালে আসছেন এই সম্মেলনের জন্য। ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার কৃষক ভোপালে পৌঁছে গিয়েছেন। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি করে মোদি সরকার ‘ভারতমাতা’-কে বেচে দিয়েছে এবং কৃষকদের পিঠে ছুরি মেরেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস নেতারা। এবার তারা বিষয়টি নিয়ে রাস্তায় নামছেন।
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ইস্যুতে মোদি সরকারকে চেপে ধরেছে বিরোধী শিবির। বিশেষ করে এই চুক্তির ফলে দেশের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে, এমনই দাবি দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের। বাণিজ্য চুক্তির ইস্যুকে সামনে রেখে দেশের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তে ‘কিসান সম্মেলন’ করছে হাত শিবির। মঙ্গলবার কিসান সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধীরা উপস্থিত থাকবেন। থাকবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, কালকের সম্মেলন থেকে দেশের কৃষক সমাজকে বার্তা দেবেন কংগ্রেস নেতারা। মোদি সরকার মার্কিন চাপের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে বলে ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করেছে তারা। এখনও অবধি ঠিক আছে, কাল ভোপালে কিসান সম্মেলনের পর ৭ মার্চ মহারাষ্ট্রের যবতমাল এবং ৯ মার্চ রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে এই সম্মেলন করবে কংগ্রেস। উল্লেখ্য, সপ্তাহ খানেক আগে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দিল্লিতে বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের ১৭ জন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে কৃষক নেতারাও মতামত দেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মোদি সরকারের অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জাতীয় স্তরে বড় মাপের আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। এদিকে, মঙ্গলবারের সম্মলেন ঘিরে ভোপালে কংগ্রেসের ব্যানার,পোস্টার, কাট আউটে ছেয়ে গিয়েছে।
মোদি সরকারকে নিশানা করে কংগ্রেস নেতারা বার বার বলে আসছেন,বাণিজ্য চুক্তি সমতার ভিত্তিতে পারস্পরিক জনস্বার্থ রক্ষার মাধ্যম হওয়া উচিত। দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে বাণিজ্য চুক্তি দাসত্বের পথে পরিণত হতে পারে না। রাজ্যসভার সাংসদ রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা অভিযোগ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে কৃষক, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সুরজেওয়ালার প্রশ্ন, সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রচার কি বাস্তবে ‘আমেরিকা-নির্ভর ভারতে’ পরিণত হচ্ছে? তাঁর দাবি, শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত দেশীয় কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের বাজারকে মার্কিন পণ্যের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে, ফলে ভারতীয় উৎপাদকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন। ৬ ফেব্রুয়ারির ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির প্রথম ধারাতেই ভারত মার্কিন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের জন্য বাজার খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, শুল্ক ছাড়াই! এতে ভুট্টা, জোয়ার, সয়াবিন, ফল-সহ বিভিন্ন পণ্য ভারতে এলে দেশীয় কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব পড়বে। তাঁর প্রশ্ন, এর মাধ্যমে কি ‘পেছনের দরজা দিয়ে’ জিএম ফসলের অনুমোদনের পথ খুলে দেওয়া হচ্ছে?
