আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহারের পর মহারাষ্ট্রের পুরনির্বাচনেও বড় সাফল্য পেয়েছে পদ্ম শিবির। যারপরনাই আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বেড়েছে মোদি, অমিত শাহদের। ফলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর আরও তীক্ষ্ণ করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। শতাব্দী প্রাচীন রাজনৈতিক দলটিকে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ভোটাররা কংগ্রেসের "নেতিবাচক রাজনীতি" প্রত্যাখ্যান করছেন এবং শাসন ও উন্নয়নের জন্য বিজেপির উপর আস্থা রাখছেন, ক্রমশ সেই ভরসা বাড়ছে।
রবিবার অসমে এক জনসভায় ভাষণ দেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই তিনি দাবি করেন যে, জনগণের রায় স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক গর্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান পছন্দের প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, "আজকের ভোটার সুশাসন এবং উন্নয়নের পাশাপাশি ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান চান। এই কারণেই বিজেপি সারা দেশের মানুষের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে।"
মহারাষ্ট্র, বিশেষ করে বৃহন্মুম্বাই-য়ের পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল ও বিজেপির সাফল্যের কথা অসমের জনসভায় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদি বলেন, "মাত্র দুই দিন আগে মহারাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোর মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম পৌরসংস্থা মুম্বাইতে মানুষ প্রথমবার বিজেপি তথা এনডিএ প্রার্থীদের জিতিয়ে একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে।"
কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী মোদির দাবি, হাত শিবির তার জন্মভূমিতেও জনসমর্থন হারিয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, "এই নির্বাচনগুলো থেকে আরেকটি স্পষ্ট বার্তা পাওয়া গিয়েছে যে, দেশ ক্রমাগত কংগ্রেসের নেতিবাচক রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করছে। যে মুম্বই শহরে কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল, সেখানেই হাত প্রতীক এখন চতুর্থ বা পঞ্চম স্থানে নেমে গিয়েছে।"
বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাব তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী বিহার-সহ সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, বিহারে দু'দশক পরে বিজেপি রেকর্ড সংখ্যক আসন পেয়েছে, যা গত দেড় বছর ধরে জনগণের অবিচল আস্থার প্রতিফলন।
কেন অসমের কাজিরাঙ্গা সফর তাঁর কাছে আনন্দের তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, "আমি কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানে রাত কাটানোর সুযোগ পেয়েছি। হাতি সাফারি করার সময় আমি এই অঞ্চলের সৌন্দর্য খুব কাছ থেকে অনুভব করেছি। অসম সফর আমাকে সবসময় এক অনন্য আনন্দ দেয়।"
এর আগে দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ৬,৯৫০ কোটি টাকার কাজিরাঙ্গা এলিভেটেড করিডোর প্রকল্পের ভূমি পুজো করেন এবং নগাঁও জেলার কালিয়াবরে দু'টি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করেন। ৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডোরটি একটি পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্প, যার মধ্যে কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের মধ্য দিয়ে যাওয়া ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বন্যপ্রাণী করিডোর, ২১ কিলোমিটারের একটি বাইপাস অংশ এবং এনএইচ-৭১৫-এর ৩০ কিলোমিটার অংশকে দুই লেন থেকে চার লেনে প্রশস্তকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই প্রকল্পটি অঞ্চলের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করার পাশাপাশি সংযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য তৈরি করা হয়েছে। নগাঁও, কার্বি আংলং এবং গোলাঘাট জেলা জুড়ে বিস্তৃত এই করিডোরটি ডিব্রুগড় এবং তিনসুকিয়াসহ উচ্চ অসমে যাতায়াতকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে।
সরকারি আধিকারিকদের মতে, বন্যপ্রাণী করিডোরটি প্রাণীদের নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করবে, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাবে, সড়ক নিরাপত্তা উন্নত করবে এবং ভ্রমণের সময় কমাবে। যানজট কমাতে, শহুরে চলাচল উন্নত করতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে জাখালবান্ধা এবং বোকাখাতে বাইপাসও তৈরি করা হবে।
