আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আজ, শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে এক অভিনব ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে শামিল হলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামক ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলনের কর্মী ও সমর্থকরা। আমেরিকার বোস্টন থেকে ভারতে ফিরে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর বিশাল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাড়ির সামনে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিন সকালেই ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন অভিজিৎ। সেখান থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লেখেন, "আমরা ভালোবাসা এবং শান্তির মাধ্যমে এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাব।" তিনি আন্দোলনকারীদের হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা ও একটি করে বই নিয়ে যন্তর মন্তরে আসার আহ্বান জানান।
বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসা (AISA) এবং এসএফআই (SFI)-এর কর্মীরাও এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাসংস্কারক সোনম ওয়াংচুকও এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। অভিনেতা প্রকাশ রাজসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এদিকে, সিজেপি-র এই প্রতিবাদের বিরোধিতা করে যন্তর মন্তরে ঢোকার চেষ্টা করেন অন্য একটি গোষ্ঠী। 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দিয়ে এবং পুলিশের সমর্থনে স্লোগান তুলে তারা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই দিল্লি পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই 'ককরোচ জনতা পার্টি'র জন্ম হয়েছিল। ভুয়ো আইনি ডিগ্রিধারী কিছু বেকার যুবককে তিনি উপহাস করে আরশোলার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যকেই হাতিয়ার করে তৈরি হয় এই অনলাইন আন্দোলন, যা আজ দিল্লির রাজপথে এক বড়সড় রাজনৈতিক প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে। শুক্রবারই দিল্লি হাইকোর্ট এই বিক্ষোভের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বা জরুরি শুনানির আর্জি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল। বর্তমানে যন্তর মন্তর চত্বর থমথমে কিন্তু পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।















