নয়াদিল্লি: নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্ক নিয়ে এ বার 'ককরোচ জনতা পার্টি' আরও সুর চড়াল। গতকাল রাতে মোদির ভাষণের পরও প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে সন্তুষ্ট হননি আন্দোলনকারীরা। নিজেদের দাবিতেই অনড় ছিলেন সিজেপি-র আন্দোলনকারীরা। নিট পরীক্ষা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে শেষমেশ শুক্রবার একটি নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠকে রাজি হয়েছে কেন্দ্র। নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়া-এ শুরু হয়েছে সেই বৈঠক। 

দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে গতকাল রাতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ঘোষণা করেন শুক্রবার দুপুরে কনস্টিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়া-বৈঠক হচ্ছে। কেন্দ্র সরকারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সিজেপি-র প্রতিনিধিরা। আগের বারের মতো এ বার আর কোনও মন্ত্রীর বাসভবন বা কার্যালয়ে বৈঠক হবে না দু'পক্ষের মধ্যে। সরকারি প্রতিনিধিদল বৈঠকে যাওয়ার আগে দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে।

আজকের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নাড্ডা, জিতেন্দ্র সিং-সহ কেন্দ্রের প্রতিনিধিদল। আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে সিজেপি-র জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা-সহ বাকি প্রতিনিধি দল। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেছেন, "সরকার আমাদের দাবি মেনে কোনও মন্ত্রীর অফিস বা বাসভবনের পরিবর্তে কনস্টিটিউশন ক্লাবের মতো একটি নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় রাজি হওয়ায় আমরা খুশি।" তাঁর আশা, সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে খোলা মনে এই আলোচনায় অংশ নেবে। আন্দোলনকারীদের উদ্বেগ এবং দাবির কথা শুনবে।

 

এ দিকে পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম রুখতে গত রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আশ্বাস সিজেপির মূল দাবির সঙ্গে মেলেনি বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। নিট প্রশ্নফাঁসের কারণে যেসকল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত এফআইআরও আইনি পদক্ষেপ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে তাঁরা এখনও অনড়। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়া না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

 

উল্লেখ্য, গত রাতেই টানা ২৬ দিন অনশনের পর শেষপর্যন্ত অনশন ভাঙেন বিখ্যাত সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। দিল্লি মেদান্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং। সোনাম ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে রুজু করা আইনি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সিজেপি তাদের অবস্থান অনড় রেখেছে।