আজকাল ওয়েবডেস্ক: যেন "ধারাবাহিক ত্রুটি-বিচ্যুতি"র অবসান ঘটানো হয়। শুক্রবার নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলার শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে এই নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ, কেন্দ্রকে জানিয়েছে যে- তারা এই বিষয়টি "অত্যন্ত নিবিড়ভাবে" পর্যবেক্ষণ করবে এবং নিয়মিতভাবে এর অগ্রগতি খতিয়ে দেখবে।
সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ বলেছে, "আমরা নিশ্চিত করব যেন সবকিছু একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়।"
এছাড়াও শীর্ষ আদালত জানতে চেয়েছে যে, সম্পূর্ণভাবে অনলাইন পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নিচ্ছে? আদালতের প্রশ্ন, "কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষার পদ্ধতি চালুর সময় আপনারা কীভাবে তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন, তা দয়া করে আদালতকে জানান।"
এর জবাবে ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (যিনি কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন) জানান যে, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আদালতের সামনে একটি "সামগ্রিক চিত্র" বা পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তুলে ধরার জন্য আরও কিছুটা সময় চেয়েছেন।
শীর্ষ আদালত মন্তব্য করে, "আমরা বিষয়টিকে এভাবেই চলতে দিতে পারি না।"
সুপ্রিম কোর্ট আগামী ৩ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের যে বিক্ষোভ চলছে, তার মধ্যেই সুপ্রিম নির্দেশ বেশ তাৎপর্যবাহী।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে দিল্লির রাস্তায় দফায় দফায় হিংসা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সিজেপি-র 'চলো সংসদ' কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংসদ ভবনের দিকে মিছিল শুরুর সময় বিক্ষোভকারী ও পুলিশ, উভয় পক্ষের অনেকেই আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে।
বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছে। পাল্টা পুলিশও দাবি করেছে যে, সংযম বজায় রাখা হয়েছিল এবং কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই পদক্ষেপ করা হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে অনশন করছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ১৮ জুলাই, তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে সাফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো দ্রুত দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। দু'দিন শুনানির পর আদালত তাঁকে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেয়, যেখানে আজ তিনি তাঁর অনশন ভঙ্গ করেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে আরও কঠোর আইন
সূত্রের খবর, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে যেসব আইনগুলোকে রয়েছে তা আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার।
জানা গিয়েছে, সরকার 'পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪'-এ সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করছে এবং আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য 'ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত' গঠনের বিধান যুক্ত করা হতে পারে।
এছাড়া, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার পরিমাণও বাড়ান হতে পারে।
















