আজকাল ওয়েবডেস্ক: লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহারের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। আজ, মঙ্গলবার। আজ তাঁর অনশন আন্দোলন ১৭ দিনে পা দিল। 

ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সমাজমাধ্যমে জানান, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ওঁর ওজন ইতিমধ্যেই সাড়ে আট কেজি কমেছে। শরীরে পেশির ক্ষয় শুরু হয়েছে। তা সত্ত্বেও অনশন ভাঙতে নারাজ ওয়াংচুক। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, সরকার কেন আলোচনায় বসছে না?

পরীক্ষায় নানা অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ভুক্তভোগী পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে ২৫ দিন ধরে বিক্ষোভ চালাচ্ছে সিজেপি। 

ওয়াংচুকের এই আন্দোলনে ইতিমধ্যেই পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের বিরোধী শিবির। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, আপ নেত্রী অতিশী, সিপিএম সাংসদ অমরারাম এবং শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। 

প্রত্যেকেই তাঁর জীবন বাঁচাতে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন। আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর দিনে যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত এক শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডলে উদ্ধব লেখেন, “আমরা শিবসেনার পক্ষ থেকে সোনম ওয়াংচুক এবং অভিজিৎ দীপকের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছি।” তবে পাশাপাশিই ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁকেও অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন উদ্ধব।

উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে কথোপকথনের কথা জানিয়ে দীপকে লেখেন, “শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে সোনম স্যারের দ্রুত বর্তমান স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্যারের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান উল্লেখ করে তিনি ওঁকে অনশন ভাঙার আন্তরিক অনুরোধ জানিয়েছেন।” এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানে সমর্থন দেওয়ার জন্য উদ্ধবকে ধন্যবাদ জানান দীপকে।

প্রসঙ্গত, গত ২০ জুন থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছিল সিজেপি। পরবর্তীতে ২৮ জুন থেকে সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে আমরণ অনশনে বসেন। সর্বভারতীয় স্তরে পরীক্ষার নানা অনিয়মের জেরে যে সমস্ত পড়ুয়া আত্মঘাতী হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা।