আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের আগ্রা থেকে ফ্রান্সের প্যারিস, দুনিয়াজুড়ে এইসব শহরের পরিচিতি ভালবাসার শহর হিসাবে। এই তালিকায় এবার নাম উঠতে পারে রাজস্থানের ছোট্ট শহর চুরু-র। এই শহরের সমাজের নানা গঞ্জনা, বাধা উপেক্ষা করেও বাড়ছে ভালবাসার বিয়ের সংখ্যা। পাশাপাশি, প্রতিদিন জেলার পুলিশ সুপার অফিসে জমা পড়ছে দম্পতিদের সাহায্যের আবেদন!

প্রেমে পড়া একটি সর্বজনীন আবেগ যা সব সীমানা, বিধিনিষেধ এবং রীতিনীতি অতিক্রম করে। প্রেম কোনও জাতি, ধর্ম বা অর্থনৈতিক অবস্থা মানে না। চুরুতে, সামাজিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এই অনুভূতিটি গত কয়েক বছরে মাথাচাড়া দিচ্ছে। মেট্রোপলিটান শহরের তুলনায় চুরু শহরটি ছোট এবং অপেক্ষাকৃত কম আধুনিক হলেও, প্রেম সেখানে অবদমিত নয়।

মজার বিষয় হল, চুরুতে বেশিরভাগ প্রেমিক-প্রেমিকাই শহরের বাইরে বিয়ে করতে পছন্দ করেন। বিবাহ বন্ধনের জনপ্রিয় গন্তব্যস্থলগুলির মধ্যে রয়েছে, দিল্লির সংলগ্ন গাজিয়াবাদের আর্য সমাজ মন্দির, অথবা জয়পুর, যোধপুর এবং বিকানিরের আদালত।

প্রায়শই জাতি, ধর্ম, সম্পদের বৈষম্য বা বয়সের পার্থক্যের মতো সামাজিক চাপের কারণে দম্পতিরা তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য অন্য শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। তবে, তাঁদের সংগ্রামের ইতি বিয়ে মিটলেই ঘটে না। 

বিয়ের পর বাড়ি ফিরে আসার পর, এই দম্পতিরা প্রায়শই তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হন। যার মধ্যে রয়েছে নানা হিংসা, হুমকি থেকে শুরু করে অসম্মানিত হওয়ার ঝুঁকি। অনেকেই চুরু পুলিশ সুপারের অফিসে সুরক্ষার জন্য আবেদন করেন। যাইহোক, দম্পতিদের এবং ঐতিহ্যবাহী সামাজিক রীতিনীতির মধ্যে এই লড়াই চুরুকে এমন একটি শহরে রূপান্তরিত করেছে যেখানে প্রেম ও সীমাজিক অনুসাসন পরস্পর বিরোধী। ফলে চুরু ক্রমশই রাজস্থানের অনন্য 'ভালোবাসার শহর' হিসাবে পরিচিত হচ্ছে।