আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে যত্রতত্র ময়লা বা বর্জ্য ফেলা যাবে না। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে জরিমানা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সবাই মিলে একটা সুন্দর ত্রিপুরা, সুস্থ ত্রিপুরা ও স্বাস্থ্যকর ত্রিপুরা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সোমবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত রাজ্যভিত্তিক একদিনের কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, "আইনে বলা হয়েছে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করার কথা। আইনে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করার অধিকারের বিষয়টিও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বচ্ছ ভারত অভিযানের আওয়াজ তুলেছিলেন। আমরাও প্রত্যেকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ স্যানিটেশন এর বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এইজন্য প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক কর্তব্য রয়েছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় দেখি যত্রতত্র ময়লা ফেলা, ড্রেইন জ্যাম করা, পরিবেশ দূষণ - যা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকির বিষয়। তাই যতক্ষণ ধরে জনসমর্থন এবং জনতা সকলে মিলে এগিয়ে না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত এর সুফল আসবে না। তাই সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সংবিধানে যা বলা হয়েছে সেই বিষয়গুলি মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে।"
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সকল অংশের মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। সেটাকে মাথায় রেখে সকলে মিলে কাজ করতে হবে এবং একটা জনআন্দোলনে পরিণত করতে হবে। পরিবার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের এই কার্যক্রমে সামিল করতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের সুন্দর পরিবেশে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কাজেই বর্জ্য ফেলার সময়েও লক্ষ্য রাখতে হবে। এক্ষেত্রে পুর সংস্থার জনপ্রতিনিধিদেরও আরও সচেতনতার সঙ্গে এই সংক্রান্ত বিষয়ে যার যার এলাকার মানুষকে সচেতন করতে হবে।"
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা একথাও বলেন, "পরিবেশ সুরক্ষায় যত্রতত্র ময়লা বা বর্জ্য ফেলা যাবে না। জেলাশাসকগণ এবিষয়ে নজরদারি রাখবেন। প্রয়োজনে জরিমানা করা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনে তাঁদের অধিকার দেওয়া হয়েছে।"
আইনে রয়েছে যাঁরা বর্জ্য ফেলা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করবেন তাঁদের বিদ্যুৎ সংযোগ ও জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যেতে পারে। পুর সংস্থার প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আপনারা হচ্ছেন জনসাধারণ এবং সরকারের মধ্যেকার ব্রিজ। কাজেই এই জায়গায় আপনাদের দায়িত্ব অনেক। "
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "প্রতিটি রাজ্য স্বচ্ছ হলেই স্বচ্ছ ভারত গড়ে তোলা সম্ভব। আমরাও স্বচ্ছ ত্রিপুরা, স্বচ্ছ আগরতলা, স্বচ্ছ পুর সংস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা যাতে একটা টেকসই ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে পারি সেই লক্ষ্যে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। বাড়িঘর থেকে ময়লা ফেলার জন্য নির্ধারিত ইউজার চার্জ অবশ্যই দিতে হবে। যা বাধ্যতামূলক। যদিও অনেকে এই চার্জ দিতে চায় না। রাজ্য সরকার 'আমার সরকার' নামে একটা অ্যাপ তৈরি করেছে। যে উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। একটা সুন্দর ত্রিপুরা, সুস্থ ত্রিপুরা ও স্বাস্থ্যকর ত্রিপুরা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাই মিলে কাজ করতে হবে।"
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব ড. মিলিন্দ রামটেকে, পুর নিগমের কমিশনার সাজু ওয়াহিদ এ, নগরোন্নয়ন দপ্তরের বিশেষ সচিব ও অধিকর্তা ড. তমাল মজুমদার সহ পুর নিগমের অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।














