আজকাল ওয়েবডেস্ক: কালাজাদু করেন স্ত্রী। আগেই সন্দেহ হয়েছিল স্বামীর। সেই সন্দেহের বশেই চরম পদক্ষেপ করলেন তিনি। স্ত্রীকে নির্মমভাবে খুন করলেন স্বামী-সহ আরও তিনজন। পুলিশি জেরায় খুনের ঘটনাটি স্বীকার করেছেন ঘাতক স্বামী।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, আদিবাসী অধ্যুষিত জাশপুর জেলায় গাট্টি মহুয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত গৃহবধূর নাম, গৌদি বাই। ৪৮ বছর বয়সি ওই গৃহবধূকে খুনের ঘটনায় স্বামী ও আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জেরায় ঘাতক স্বামী জানিয়েছেন, স্ত্রী তুকতাক করছেন। কালাজাদু করার জন্যেই কোনও সন্তানের জন্ম দিতে পারেননি। এমনকী এই কারণেই বাবা ক্যানসার হয়ে, মারাও যান। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ৬ মার্চ। মৃত গৃহবধূর ভাই থানায় পৌঁছে জানান, রহস্যজনকভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
তদন্তে নেমেই পুলিশ দেখে, মৃতদেহে এবং আশেপাশে রক্তের দাগ। এমনকী মৃতদেহেও আঘাতেও চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, এটি খুন। ধারাল কোনও অস্ত্র দিয়ে আঘাতের জেরেই মৃত্যু হয়েছে গৃহবধূর। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় মামলা রুজু করে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের এবং গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
দীর্ঘ জেরার পর গৃহবধূর স্বামী, তাঁর আরেক স্ত্রী, আরেক স্থানীয় যুবক এবং তাঁর স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশকে ঘাতক স্বামীর আরেক স্ত্রী জানান, ৫ মার্চ গৌদি বাইয়ের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়েছিল। এমনকী হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। খানিকক্ষণ পর স্বামীই গৌদিকে নিয়ে ফাঁকা কুঁড়েঘরে গিয়েছিলেন। সেখানেই বাকিরা উপস্থিত ছিলেন।
সেই কুঁড়েঘরে বসেই অভিযুক্তরা লোকাল মদ খাচ্ছিলেন। মত্ত অবস্থায় সকলেই গৌদিকে হেনস্থা করেন। কালাজাদু করার অভিযোগ তুলে জানান, পরিবারের দুর্ভাগ্যের জন্য তিনিই দায়ী। সেখানে চারজনে মিলে বেধড়ক মারধর করে গৃহবধূকে খুন করেন। এরপর দেহটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বিছানায় রেখে দিন। মৃতদেহের গায়ে কম্বল চাপা দিয়ে রাখেন।
