আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভুলবশত কোনও লিঙ্কে ক্লিক, একটা ফোন আর অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথন। আর তারপরই ব্যাঙ্ক থেকে উধাও লক্ষ লক্ষ টাকা। ডিজিটাল গ্রেফতারির এই ফাঁদ থেকে মানুষকে মুক্ত করতেই এ বার নয়া ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। সোমবার একটি নতুন প্রযুক্তির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)।
সিবিআই আধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সংস্থার প্রতিষ্ঠাতাকে সম্মান জানিয়ে ২২ তম ডিপি কোহলি মেমোরিয়াল বক্তৃতার আয়োজন করা হবে। সভার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সেখানেই এআই চালিত একটি চ্যাটবটের উন্মোচন করা হবে।চ্যাটবটটি ফোনের মেসেজ বা ই-মেল মারফত আসা যে কোনও নির্দেশিকার সত্যতা যাচাই করে দেখতে পারবে।
বর্তমানে অনেকসময়ই দেখা যায়, নিজেদের সিবিআই অফিসারের পরিচয় দিয়ে অসাধু চক্র চালান প্রতারকেরা। মিথ্যে মামলার ভয় দেখিয়ে এমনকি সিবিআই-এর সইসাবুদ করা নির্দেশিকা দেখিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিজিটাল গ্রেফতারি করে রাখা হয় সাধারণ মানুষকে। এর পর হাতিয়ে নেওয়া হয় কোটি কোটি টাকা। সেই নির্দেশিকা আদৌ সিবিআই জারি করেছে কি না, তা এক লহমায় বলে দিতে পারবে সিবিআই-এর নতুন চ্যাটবট। এ প্রসঙ্গে, সিবিআই-এর মুখপাত্র বলেছেন, 'ডিজিটাল গ্রেফতারির যুগে যেখানে একের পর এক মানুষের টাকা আত্মসাৎের ঘটনা ঘটছে, সেখানে নয়া প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের বিপুল কাজে আসবে.
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, সাইবার অপরাধীরা একাধিক ঘটনায় প্রায় ৫৪ কোটি টাকারও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যা রীতিমত ডাকাতির সমান বলেও আখ্যা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবারের বক্তৃতাসভায় যোগ দেবেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টরা। আলোচনা হবে সাইবার অপরাধ-সহ বর্তমান দুনিয়ার একাধিক সমস্যা নিয়ে। অপরাধমূলক ক্রিয়াকলাপ দমনে কী ভাবে তদন্ত চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, আইন প্রণয়ন এবং শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যায়, আলোচনা হবে তা নিয়েও।
প্রসঙ্গত, ১৯০৭ সালে উত্তরপ্রদেশে জন্মগ্রহ্ন করেন ডিপি কোহলি। ১৯৩১ সালে যোগদান করেন পুলিশের চাকরিতে। এর পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলে ১৯৬৩ সালে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিষ্ঠা করেন। কাজের দায়ভার সামলান ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত। তাঁর প্রতি সম্মানজ্ঞাপন করে ২০০০ সাল থেকেই ডিপি কোহলি মেমোরিয়াল বক্তৃতাসভার আয়োজন করা হয়।















