আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্মক্ষেত্রে সাজসজ্জার উপর নিষেধাজ্ঞা ঘিরে চশমা প্রস্তুতকারী সংস্থা লেন্সকার্টের বিরুদ্ধে আগেই তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। এ বার ওই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হল। সোমবার বাণিজ্যনগরীতে সংস্থার এক দোকানে ঢুকে পড়লেন মুম্বইয়ের এক মুসলিম বিজেপি নেত্রী। দোকানের একাধিক কর্মীকে পরিয়ে দিলেন টিকা বা তিলক।
সোমবারের ঘটনা ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। প্রকাশিত ভিডিয়ো-য় দেখা যাচ্ছে, মুম্বইয়ে লেন্সকার্টের দোকানে দলীয় কর্মীদের নিয়ে প্রবেশ করছেন নাজিয়া ইলাহী। তিনি বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার সদস্য। প্রথমেই ফ্লোর ম্যানেজারকে মহসিন খানকে চিহ্নিত করেন তিনি। এর পর বিতর্কিত সেই নির্দেশিকার প্রসঙ্গ তুলে জবাবদিহি শুরু করেন। শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ। নাজিয়া ম্যানেজারকে বলেন, "আপনি মুসলিম বলেই কি হিজাব পড়ায় কোনও বিধিনিষেধ রাখেননি? অথচ হিন্দুদের ধর্মীয় ইঙ্গিতবাহী প্রতীকের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন?" তার পরই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনা। নাজিয়া দোকানের সমস্ত হিন্দু কর্মীকে এক জায়গায় জড়ো হতে বলেন। পরিয়ে দেন তিলক। নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে লজ্জিত বোধ করতে বারণ করেন। এর পর ম্যানেজারকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত 'জয় শ্রী রাম' ধ্বনি দিতে থাকেন নাজিয়া এবং অন্য বিজেপি কর্মীরা।
ঘটনার পর নিজের 'এক্স' হ্যান্ডেলেও নাজিয়া লেখেন, "এটি হিন্দু রাষ্ট্র। নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়ের উপর কোনওরকম নিষেধাজ্ঞা মেনে নেবেন না। লেন্সকার্ট হোক বা এয়ার ইন্ডিয়া, যেখানেই চাকরি করুন না কেন! নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে রাখবেন না।"
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি লেন্সকার্ট-এর কর্মক্ষেত্রের তরফে জারি হওয়া বিতর্কিত নির্দেশিকা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল সমাজমাধ্যমে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, দোকানে কর্তব্যরতরা হিজাব পরতে পারবেন। তবে কপালে কোনও টিপ বা হাতে কোনও ধর্মীয় ইঙ্গিতবাহী প্রতীক রাখতে পারবেন না। সংস্থার এই নিয়মবিধি ঘিরে ঝড় উঠেছিল সমাজমাধ্যমে। শেষমেশ, সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা পীযূষ বনসাল প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। এয়ার ইন্ডিয়া-র কর্মকর্তার মতো তিনিও দাবি করেন প্রচারিত বিধিটি পুরনো, যা বর্তমানে আর কার্যকর নেই। বদলে ফেলা হয়েছে নিয়মবিধি। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, সংস্থায় কোনও ধর্মীয় ইঙ্গিতবাহী প্রতীকের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত নেই। কোনও ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণে তাঁদের বিশ্বাস নেই। কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে তোষণ করাও তাদের উদ্দেশ্য নয়। তিনি বলেন, "আমরা আদতে এরকম মূল্যবোধে বিশ্বাস করিনা। আমাদের সংস্থাতেও এরকম কোনও কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন দেখা যায় না।"















