আজকাল ওয়েবডেস্ক: সচরাচর দেবতাকে প্রণাম করে আশীর্বাদ চাওয়াই দস্তুর। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলার এক মন্দিরে ছবিটা একেবারেই অন্যরকম। সেখানে আশীর্বাদ মেলে পুরোহিতের লাথিতে! আর সেই 'পবিত্র' আশীর্বাদ পাওয়ার আশায় প্রতি বছর ভিড় জমান অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা ও কর্নাটকের হাজার হাজার মানুষ। 

ভক্তদের বিশ্বাস, পুরোহিতের লাথিতেই লুকিয়ে আছে জীবনের সুখ-শান্তি। মোক্ষলাভের উপায়।

জানা গিয়েছে, কুর্নুলের বিখ্যাত শ্রী সিদ্ধ রামেশ্বর মন্দিরে প্রতি বছর এপ্রিল মাসের উৎসবে এই অদ্ভুত নিয়ম পালন করা হয়। গত ২ এপ্রিল শিবের 'রথযাত্রার' মাধ্যমে এই উৎসব শুরু হয়েছিল। উৎসবের তৃতীয় দিনে ধুমধাম করে পালন করা হয় শিব-পার্বতীর বিয়ে। তবে মূল আকর্ষণ ছিল ৫ এপ্রিলের অনুষ্ঠান।

বিয়ের নিয়ম মিটতেই মন্দিরের বাইরে লাইনে দাঁড়ান শয়ে শয়ে ভক্ত। মাথায় দেবতার মূর্তি আর হাতে ত্রিশূল নিয়ে নাচতে নাচতে বেরিয়ে আসেন পুরোহিত। 

গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, সেই সময় পুরোহিতের শরীরে স্বয়ং 'বীরভদ্র' ভর করেন। নাচের তালে তালে তিনি সামনে থাকা ভক্তদের সজোরে লাথি মারতে থাকেন। অবাক করা বিষয় হলো, ভক্তরা এই লাথি খেয়ে ভয় পাওয়া তো দূর অস্ত, বরং আশীর্বাদ পেতে আরও এগিয়ে যান।

স্থানীয়দের মতে, পুরোহিতের লাথি খেলে জীবনের সব বিপদ কেটে যায়। কেউ মনে করেন এতে ভালো চাকরি বা সুস্বাস্থ্য মেলে, আবার কারও বিশ্বাস এর ফলে 'মোক্ষলাভ' হয়। ৫০০ বছরের পুরনো এই প্রথা আজও একইরকম। লোককথা অনুযায়ী, একসময় শিব-পার্বতীর বিয়েতে ভক্তদের ভুলে রুষ্ট হয়ে মহাদেব বীরভদ্র রূপে দেখা দিয়েছিলেন। সেই থেকেই এই নিয়ম চলে আসছে। আজকের যুগের তরুণরাও পূর্বপুরুষদের এই 'বিচিত্র' রীতিকে মর্যাদার সঙ্গে টিকিয়ে রেখেছেন।