আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভান্ডার থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস বিধায়ক ফুল সিং বারাইয়ার একটি বিতর্কিত মন্তব্য মধ্যপ্রদেশে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে বিধায়কের মন্তব্যের নিন্দায় মুখর। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও সরব হয়েছে।  

কেন এত ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ ভাষণ দিয়েছেন কংগ্রেস বিধায়ক। তাঁর দাবি, তফশিলি জাতি, জনজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মহিলারা ধর্ষিতা হন কারণ বিভিন্ন প্রাচীন পুঁথিতে কিছু বিকৃত ধারণা বর্ণিত রয়েছে। সেই সব পুঁথিকে উদ্ধৃত করে ফুল সিংয়ের দাবি, তীর্থযাত্রায় যে পুণ্যলাভ হয়, মহিলাদের ধর্ষণ করেও একই রকম পুণ্যলাভ হয় বলেই মনে করেন অপরাধীরা। 

কংগ্রেস বিধায়কের কথায়, "ভারতে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার তফশিলি জাতি, জনজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মহিলারা। ধর্ষণের তত্ত্ব হল, কোনও পুরুষ, যে কোনও মানসিক পরিস্থিতিতেই হোক, রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় যদি সুন্দরী মহিলাকে দেখেন, তাতে তাঁর মন বিভ্রান্ত হতে পারে এবং তিনি ওই মহিলাকে ধর্ষণ করতে পারেন। কিন্তু এসসি, এসটি, ওবিসি মহিলারা তো সুন্দর নন। কিন্তু তাঁরা ধর্ষিতা হন, কারণ এ সব প্রাচীন পুঁথিতে বলা আছে।"

কেন তাহলে শিশুরা ধর্ষণের শিকার হয়? ফুল সিংয়ের ব্যাখ্যা, "পুঁথিতে লেখা আছে, এসসি, এসটি, ওবিসি সম্প্রদায়ের কোনও মহিলার সঙ্গে সঙ্গম করলে তীর্থযাত্রার সমান পুণ্যলাভ হবে। কেউ যদি তীর্থযাত্রায় যেতে না পারেন, তাঁর কাছে পুণ্যের আর কী বিকল্প আছে? তখন তিনি রাতের অন্ধকারে এই সম্প্রদায়ের কোনও মেয়েকে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। সেই কারণেই চার মাস কিংবা এক বছরের শিশুরাও ধর্ষিত হচ্ছে।"

মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারি দলীয় বিধায়ক ফুল সিং বারাইয়ার মন্তব্য থেকে দলকে দূরে রাখতে মরিয়া। দ্ব্যর্থহীনবাষায় তিনি বলেছেন, "কোনওভাবেই ধর্ষণের ন্যায্যতা প্রমাণ করা যায় না। যে ধর্ষণ করে সে একজন অপরাধী। এটাকে জাতি বা ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করা যায় না।" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে যৌন হিংসা একটি গুরুতর অপরাধ এবং এটিকে যৌক্তিক প্রমাণ করার কোনও প্রচেষ্টাই গ্রহণযোগ্য নয়।

সামাজিক সংগঠনগুলোও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সর্বভারতীয় ব্রাহ্মণ সমাজ (মধ্যপ্রদেশ শাখা) এই বিবৃতির নিন্দা করেছে। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি পুষ্পেন্দ্র মিশ্র বলেছেন যে, এই ধরনের মন্তব্য নারী এবং সমগ্র সমাজকে অপমান করে।

বিজেপি আক্রমণ শানিয়ে এক বিবৃতিকে কংগ্রেস বিধায়কের মন্তব্যকে "অপরাধী ও বিকৃত মানসিকতার" প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছে। মধ্যপ্রদেশ বিজেপির মিডিয়া ইনচার্জ আশীষ আগরওয়াল বলেছেন যে, এই মন্তব্যটি কোনও অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল না, বরং এটি একটি গুরুতর আদর্শের প্রকাশ। তিনি বলেন, "নারীদের 'সৌন্দর্যের' মাপকাঠিতে বিচার করা এবং দলিত ও আদিবাসী নারীদের বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধকে তথাকথিত পবিত্র কাজ হিসেবে বর্ণনা করা হল নারীবিদ্বেষ, দলিত-বিরোধী মানসিকতা এবং মানবতার ওপর সরাসরি আঘাত।"

আশীষ আগরওয়াল রাহুল গান্ধীর কাছে জানতে চান যে, এটা কি কংগ্রেসের "সংবিধান বাঁচাও" অভিযানের আড়ালে থাকা দলের আসল আদর্শকে প্রতিফলিত করে? তিনি হয় বারাইয়াকে অবিলম্বে দল থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন, অথবা কংগ্রেসকে স্পষ্টভাবে স্বীকার করতে বলেছেন যে- তারা এই ধরনের চিন্তাভাবনার সঙ্গে একমত। আগরওয়াল বলেন, "এটা শুধু রাজনীতি নিয়ে নয়। একজন নারী দেবী, কোনও বস্তু নন। নারীদের অপমান করা কখনওই মেনে নেওয়া হবে না।"