আজকাল ওয়েবডেস্ক: অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যা মামলায় বিজেপির জাতীয় সম্পাদক দুষ্যন্ত কুমার গৌতমকে তথাকথিত ‘ভিআইপি’ হিসেবে জড়ানোর অভিযোগকে প্রাথমিকভাবে মানহানিকর বলে মন্তব্য করে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টিকে (আপ) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট।

বুধবার বিচারপতি মিনি পুষ্কর্ণা গৌতমের দায়ের করা মানহানি মামলায় অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে বলেন, তদন্ত নথি, চার্জশিট বা আদালতের রায়ে কোথাও দুষ্যন্ত কুমার গৌতমের নাম নেই। তা সত্ত্বেও তাঁকে গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার চালানো মানহানিকর এবং এতে তাঁর সুনামের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

আদালত কংগ্রেস, আপ এবং মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স থেকে গৌতমকে অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যা মামলার ‘ভিআইপি’ বলে ইঙ্গিত বা দাবি করা সমস্ত পোস্ট, ভিডিও ও বক্তব্য অবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি পুষ্কর্ণা স্পষ্ট করেন, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত কোনও পক্ষই এমন কনটেন্ট প্রকাশ বা প্রচার করতে পারবে না।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্দেশ মানা না হলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকেই-এক্স, মেটা প্ল্যাটফর্ম এবং গুগল থেকে এই কনটেন্ট সরাতে হবে। ভবিষ্যতে একই বা প্রায় একই ধরনের কোনও কনটেন্ট গৌতমের তরফে চিহ্নিত করে জানানো হলে সেটিও অপসারণ করতে হবে বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা কেবল কংগ্রেস ও আপের বিরুদ্ধে নয়; অভিনেত্রী উর্মিলা সানাওয়ার, উত্তরাখণ্ড প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি, তার সভাপতি গণেশ গোডিয়াল, কংগ্রেসের জাতীয় মিডিয়া প্যানেলিস্ট আলোক শর্মা এবং কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধেও প্রযোজ্য।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঋষিকেশের কাছে বানন্তরা রিসর্টে কর্মরত ১৯ বছরের তরুণী অঙ্কিতা ভাণ্ডারি নিখোঁজ হন। ছয় দিনের তল্লাশির পর চিলা ক্যানাল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে উঠে আসে, তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ক্যানালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ড উত্তরাখণ্ড জুড়ে তীব্র জনরোষের সৃষ্টি করে এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।

পরবর্তীতে রিসর্ট মালিক পুলকিত আর্য যিনি স্থানীয় বিজেপি নেতা বিনোদ আর্যের ছেলে এবং তাঁর দুই কর্মচারী সৌরভ ভাস্কর ও অঙ্কিত গুপ্তকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে কোনও পর্যায়েই কোনও ‘ভিআইপি’ ব্যক্তির নাম অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন হিসেবে উঠে আসেনি।

মামলাকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ে যখন প্রশাসন হত্যার কয়েক দিনের মধ্যেই ভানন্তরা রিসর্টের একটি অংশ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয়। বিরোধী দল, নিহতের পরিবার ও সমালোচকদের দাবি ছিল, এতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হয়ে থাকতে পারে। যদিও রাজ্য সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, আইন মেনেই এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পরেই ভাঙার কাজ হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেত্রী উর্মিলা সানাওয়ার প্রকাশিত একটি অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। ওই অডিওতে এক অজ্ঞাত ‘ভিআইপি’ বা ‘গাট্টু’-র উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়, যা কংগ্রেস ও আপ নেতারা সাংবাদিক সম্মেলন ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করেন। দুষ্যন্ত কুমার গৌতমের অভিযোগ, কোনও তথ্য যাচাই না করেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে।

মঙ্গলবার উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি প্রকাশ্যে গৌতমের পক্ষে দাঁড়িয়ে বলেন, পুলিশি যাচাইয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে ১০ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২-এর মধ্যে গৌতম উত্তরাখণ্ডে ছিলেন না। তাঁর মতে, একটি অডিও ক্লিপের ভিত্তিতে রাজ্যের পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রচার চালানো হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে দুষ্যন্ত কুমার গৌতম কংগ্রেস, আপ ও অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে গৌতমের যে সুনাম গড়ে উঠেছে, তা রাজনৈতিক অপপ্রচারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত বিষয়টির আরও বিস্তারিত বিচার করবে।