আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের জেরে ইজরায়েলের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঝ আকাশ থেকেই দিল্লি–তেল আভিভগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান ভারতে ফিরে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, দিল্লি থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা হওয়া ফ্লাইটটি গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছনোর আগেই নিরাপত্তাজনিত কারণে ফিরিয়ে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইজরায়েলের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় সেখানে অবতরণ সম্ভব ছিল না। যাত্রী ও বিমানকর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থা।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর একাধিক দেশের আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এর আগেও এমন পরিস্থিতিতে বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঘুরিয়ে দেওয়া বা বাতিল করার নজির রয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা, রিফান্ড করে দেওয়াও হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে এই রুটে সাময়িকভাবে পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে জমে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শনিবার ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো করেছে।
ইজরায়েল জানিয়েছে, তারা “প্রি-এম্পটিভ” বা আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে “বড় ধরনের সামরিক অভিযান” শুরুর কথা নিশ্চিত করে বলেন, ইরানকে কখনই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
ট্রাম্প বলেন, “আমাদের লক্ষ্য আমেরিকান জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ইরানি শাসনের হুমকি ধ্বংস করা। ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের চেষ্টা করেছে।” মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাতারের এক সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই যৌথ বিমান হামলার উদ্দেশ্য ইরানের নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে দেওয়া এবং সামরিক ক্ষমতা দুর্বল করা।
তিনি আরও বলেন, ১৯৮৩ সালে ইরানের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো বেইরুটে মেরিন কর্পস ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যাতে ২৪১ জন আমেরিকান সেনাসদস্য নিহত হন।
২০০০ সালে ইউএসএস কোলের ওপর হামলার বিষয়ে তারা জানত এবং সম্ভবত এতে জড়িত ছিল। এতে বহু মানুষ নিহত হয়। ইরানি বাহিনী ইরাকে শত শত আমেরিকান সেনাসদস্যকে হত্যা ও আহত করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাসনব্যবস্থার মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকান বাহিনী, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর অসংখ্য হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এটি ছিল ব্যাপক সন্ত্রাসবাদ, এবং আমরা আর এটি সহ্য করব না। লেবানন থেকে ইয়েমেন, সিরিয়া থেকে ইরাক—এই শাসনব্যবস্থা সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অর্থ দিয়ে অঞ্চলটিকে রক্তাক্ত করেছে।
