নিতাই দে, আগরতলা: দীর্ঘ প্রায় ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হল ভারত–বাংলাদেশ মৈত্রী বাস পরিষেবা। মঙ্গলবার আগরতলা–আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ত্রিপুরা পরিববহন নিগম (টিআরটিসি)-এর মৈত্রী বাস ত্রিপুরায় প্রবেশ করে। একইসঙ্গে আগরতলা থেকে কলকাতা ভায়া ঢাকা রুটেও পরিষেবা পুনরায় শুরু হয়। সীমান্তে বাসযাত্রীদের সবুজ পতাকা নাড়িয়ে ফুল দিয়ে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, টিআরটিসি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সমর রায়, এমডি হেমন্ত দেববর্মা-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। 

মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে আগরতলার টিআরটিসি টার্মিনাস থেকে মৈত্রী বাস বেশ কয়েকজন যাত্রী নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পুনরায় এই আন্তঃদেশীয় বাস পরিষেবা চালু হওয়ায় সীমান্ত জুড়ে খুশির হাওয়া বইতে দেখা যায়। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আজ থেকে ফের বাস পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়েছে।” তিনি একে ‘অত্যন্ত আনন্দের বিষয়’ বলে উল্লেখ করেন। মন্ত্রী জানান, ভারত সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছে এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে টিআরটিসি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানান, পরিষেবা চালু থাকাকালীন সময়ে প্রতিদিন আগরতলা থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে আগরতলায় প্রায় ১০ হাজার যাত্রীর যাতায়াত ছিল। পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগে প্রভাব পড়েছিল। ফের পরিষেবা চালু হওয়ায় সেই সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

এদিন ঢাকা থেকে আসা এক যাত্রী এইচ এম নরোয়াল কামাল জানান, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সার্ভিসটি নতুন করে চালু হওয়াতে তিনি অনেক খুশি। এর ফলে সহজে ঢাকা থেকে আগরতলায় আসা যাবে  এবং আগরতলা থেকে ঢাকা হয়ে সরাসরি কলকাতা যাওয়া যাবে। তিনি চান দুই দেশের সম্পর্ক যাতে আরও গভীর হয়। যেহেতু ভারত বাংলাদেশ দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র, তারা একসঙ্গে সম্পর্ক রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য সকল ক্ষেত্রে চলতে পারলে সকলের ভাল হবে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে আগরতলা–কলকাতা ভায়া ঢাকা রুটে মৈত্রী ও শ্যামলী বাস পরিষেবা চালু হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতি এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় পর পুনরায় পরিষেবা চালু হওয়ায় দুই দেশের যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ভিসা প্রক্রিয়া সরলীকরণ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের ফলে আগামিদিনে এই রুটে যাত্রী সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। দুই দেশের মানুষের মধ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতেও এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।