আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুজরাটের জুনাগড় শহরে তৈরি হয়েছে একটি বড় বিতর্ক। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এক বিখ্যাত মন্দির, অম্বাজি শক্তিপীঠ গিরনর মন্দির। এই মন্দির, এলাকার অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত। হিন্দু ধর্মের একটি শক্তিপীঠ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এখানে দেবী সতীর দেহের একটি অংশ পতিত হয়েছিল। তাই ভক্তদের কাছে জায়গাটি খুব পবিত্র।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে মন্দির চত্বরে পার্টির মতো একটি দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ। সেখানে মদ্যপান এবং আমিষ খাবার দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। পাশপাশি অভিযোগ ওঠে, এই ঘটনায় মন্দির প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুসারে, ভিডিওটি দাবানলের মতো দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ার, পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। মোট ১১ জনকে তাদের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় একজন মন্দির পুরোহিতও রয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের মন্দিরে প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মন্দিরে ইতিমধ্যেই দুইজন নতুন পুরোহিত নিয়োগ করা হয়েছে। তারা প্রতিদিনের পূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার দেখভাল করবেন। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিক একে বরাইয়া। তিনি জুনাগড় শহরের শক্তিপীঠের প্রশাসক। তার মতে, পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট। তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়েছেন পুরোহিত দষ্মন্ত গিরি। তবে তিনি নিজের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে তাদের তিনি চেনেন না। তিনি আরও বলেন, তাদের পরিবার বহু প্রজন্ম ধরে এই মন্দিরে পূজা করে আসছে। এই পৌরোহিত্য তাদের বংশগত অধিকার। তাই পূজা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রশাসন এখন ভিডিওটি খতিয়ে দেখছে। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
