পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির মধ্যে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘যুবশক্তি’ এবং মা-বোনেদের আর্থিক স্বনির্ভরতার জন্য ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
2
12
এই প্রকল্পগুলির জন্য আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর অনেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকবেন যে কবে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে।
3
12
কিন্তু দেখা যায়, সবকিছু ঠিক থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ব্যাঙ্কের একটি ছোট ভুলের কারণে অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকে না। এই ছোট অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল ‘ডিবিটি লিঙ্ক’ বা আধার ম্যাপিং।
4
12
ডিবিটি-র অর্থ ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার। আগে সরকার কোনও প্রকল্পের টাকা দিত, তখন তারা সরাসরি উপভোক্তার অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএসসি কোড ধরে টাকা পাঠাতো। কিন্তু এই পদ্ধতিতে অনেক সময় অ্যাকাউন্ট নম্বর ভুল হওয়ায় বা ব্যাঙ্ক মার্জ হয়ে আইএফএসসি পরিবর্তন হওয়ায় টাকা মাঝপথে আটকে যেত।
5
12
যুবশক্তির মাসিক ভাতাই হোক বা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আর্থিক সহায়তাই হোক— সরাসরি আধার পেমেন্ট ব্রিজ সিস্টেমের (APBS) মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।
6
12
আপনার ব্যাঙ্কে যদি আধার কার্ড শুধু আইডেন্টিটি বা কেওয়াইসি হিসেবে জমা দেওয়া থাকে, কিন্তু ডিবিটি চালু না থাকে, তবে সরকার আপনার টাকা রিলিজ করলেও তা আপনার অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে না। টাকা বাউন্স হয়ে ফিরে যাবে।
7
12
ডিবিটি লিঙ্ক আছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যাঙ্কে যাওয়ার আগে আপনি আপনার মোবাইল থেকেই চেক করে নিতে পারেন আপনার আধার কার্ডের সঙ্গে কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি চালু আছে।
8
12
www.myaadhaar.uidai.gov.in পোর্টালে লগইন করে ব্যাঙ্ক সিডিং স্ট্যাটাস চেক করে দেখে নিতে পারবেন আপনার ডিবিটি স্ট্যাটাস অ্যাকটিভ না ইনঅ্যাকটিভ রয়েছে।
9
12
যদি আপনার অ্যাকাউন্টে ডিবিটি লিঙ্ক না থাকে, তবে আপনার যে ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট আছে সেই ব্যাঙ্কের হোম ব্রাঞ্চে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে আপনাকে ‘Aadhaar Seeding Form’ বা ‘NPCI Mapper Form’ চাইতে হবে। এই ফর্মের সঙ্গেই আপনার আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্ক পাসবুকের জেরক্স কপি জমা দিতে হবে।
10
12
অনেক সময় দেখা যায় গ্রামীণ ব্যাঙ্ক বা অন্যান্য কিছু ব্যাঙ্কের সার্ভার সমস্যার কারণে ফর্ম জমা দেওয়ার পরেও দীর্ঘদিন ডিবিটি লিঙ্ক হয় না। অনেকের আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্কের তথ্য মেলে না।
11
12
এক্ষেত্রে উপায় হচ্ছে নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে চট করে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে নেওয়া। ফর্ম ফিলাপের ঝামেলা নেই আধার কার্ড এবং মোবাইল নন্বর কাছে থাকলে ৫ মিনিটেই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।
12
12
অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ই পোস্টমাস্টারকে বলবেন ডিবিটি বা সরকারি টাকা আসার অপশনটি চালু করে দিতে। এই ব্যাঙ্কের সার্ভার সরাসরি এনপিসিআই-এর সঙ্গে যুক্ত থাকায় সর্বোচ্চ ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনার ডিবিটি ম্যাপিং সফলভাবে হয়ে যায় এবং সরকারি টাকা ঢোকার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয় না।