মৃত্যুর পর কী হয়? ৭ ঘণ্টা ‘মৃত’ থাকার পর স্বর্গ দেখার দাবি মহিলার! রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা ঘিরে তোলপাড়
নিজস্ব সংবাদদাতা
৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭ : ০৬
শেয়ার করুন
1
9
মৃত্যুর পর কী হয়? যুগের পর যুগ এই প্রশ্ন মানুষকে ভাবিয়ে রেখেছে। সেই প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে এক মহিলার অভিজ্ঞতা। তাঁর দাবি, তিনি এক দুর্ঘটনার পর টানা ৭ ঘণ্টা মৃত ছিলেন, আর সেই সময়েই তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন স্বর্গে। সেখানে তিনি এমন এক জগতের দেখা পান, যা তাঁর জীবনের সব অভিজ্ঞতার থেকে আলাদা।
2
9
কীভাবে ‘মৃত’ হয়েছিলেন ওই মহিলা? কয়েক বছর আগে ওই মহিলা একটি গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হন। দুর্ঘটনার পর তাঁর শরীর এতটাই ভেঙে পড়ে যে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং শরীরে কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। এই অবস্থায় তাঁকে ক্লিনিক্যালি মৃত ঘোষণা করা হয়।
3
9
চিকিৎসকদের দাবি অনুযায়ী, এই অবস্থা প্রায় ৭ ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। পরে চিকিৎসার ফলে তিনি আশ্চর্যজনকভাবে আবার জীবন ফিরে পান।
4
9
মৃত্যুর সময় কী দেখেছিলেন ওই মহিলা? জ্ঞান ফেরার পর ওই মহিলা জানান, মৃত্যুর সময় তিনি কোনও অন্ধকার বা ভয়ের অনুভূতি পাননি। বরং তিনি অনুভব করেছিলেন, এক গভীর শান্তি ও প্রশান্তি, চারপাশে এক ধরনের উজ্জ্বল আলো, শরীরের কোনও ব্যথা বা কষ্টের অনুভূতি ছিল না, নিজেকে খুব হালকা ও মুক্ত মনে হচ্ছিল। তাঁর কথায়, সেই অভিজ্ঞতা ছিল ভয়হীন এবং ভালবাসায় ভরপুর।
5
9
ওই মহিলার দাবি, তিনি এমন এক জায়গায় পৌঁছেছিলেন যাকে তিনি স্বর্গ বলেই মনে করেন। তাঁর ভাষায়, সেখানে কোনও দুঃখ, রাগ বা হিংসা নেই। চারদিকে ছিল শুধু ভালবাসা ও নিরাপত্তার অনুভূতি, সময়ের কোনও হিসেব নেই। মানুষের মতো শরীর নয়, বরং আত্মার মতো অস্তিত্ব অনুভব করেছিলেন।
6
9
তিনি আরও জানান, সেখানে কিছু 'উচ্চতর শক্তি' বা সত্তার উপস্থিতি তিনি অনুভব করেছিলেন, যাদের তিনি ঐশ্বরিক বলে মনে করেন।
7
9
এপ্রসঙ্গে বিজ্ঞান কী বলছে? এই ধরনের অভিজ্ঞতাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় নিয়ার ডেথড এক্সপেরিয়েন্স (এনডিই)।
বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করেন, এক্ষেত্রে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব,তীব্র মানসিক ও শারীরিক ট্রমা, মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তন হয়। এই সব কারণেই এমন দৃশ্য বা অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
8
9
তবে বিজ্ঞান এখনও নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি যে এই অভিজ্ঞতা পুরোপুরি মস্তিষ্কের সৃষ্টি, নাকি সত্যিই মৃত্যুর পর অন্য কোনও জগতের অস্তিত্ব আছে।
9
9
কেন এই ঘটনা এত আলোচনায়? আসলে এই ঘটনা নিয়ে মানুষের কৌতূহলের কারণ দীর্ঘ সময় মৃত থাকার দাবি। ওই মহিলার অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিশ্বের বহু মানুষের একই ধরনের বর্ণনার মিল রয়েছে। মৃত্যুর পর জীবনের প্রশ্নটি মানুষের মনে গভীরভাবে জড়িত। আর এই কারণেই বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।