বামফ্রন্ট থেকে কি বেরিয়ে যাবে সিপিএম? সংকেত দিল রেজিনগর, ফ্রন্টের ইতিহাস ভেঙে নতুন 'পথের' দিকে সেলিমরা
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ : ৫৭
শেয়ার করুন
1
8
জল্পনা অনেক বছর ধরেই চলছিল, তবে এবার সেই আশঙ্কাই সত্যি করে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা আসন বণ্টনের চেনা সমীকরণে সরাসরি কাঁচি চালাল সিপিএম। ১৯৮২ সাল থেকে বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির মধ্যে যে বাঁধাধরা ‘সিটিং অ্যাডজাস্টমেন্ট’-এর ছক মেনে প্রার্থী ঠিক হতো, তা আর চোখ বুজে মানতে নারাজ আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
2
8
ঐতিহ্যের দোহাই ভুলে এবার যে আসনে যে দলের বাস্তব সাংগঠনিক শক্তি ও লড়াইয়ের ক্ষমতা রয়েছে, তাকেই প্রার্থী বাছাইয়ের মূল মাপকাঠি করার কড়া বার্তা দিল বড় শরিক। মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী রেজিনগর কেন্দ্রে নিজস্ব প্রার্থী ঘোষণা করে সেই বাস্তবমুখী নীতিরই প্রথম চাল চেলে দিল তারা।
3
8
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই ফ্রন্টের এক শরিক দলের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সেই পুরনো বৃত্ত ভেঙে সিপিএম সেখানে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করতেই শরিকদের একাংশের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সূত্রের খবর, এই অসন্তোষকে বিন্দুমাত্র আমল দিতে নারাজ আলিমুদ্দিনের শীর্ষ নেতৃত্ব।
4
8
বিগত কয়েক বছরে রাজ্যের মাটিতে বামেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি ও ভোটের অঙ্কে যে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে, তা অস্বীকার করে স্রেফ পুরনো নিয়মের খাতিরে দুর্বল শরিকের হাতে আসন তুলে দেওয়া আত্মঘাতী বলেই মনে করছে দল।
5
8
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিপিএম রাজ্য কমিটির এক সদস্য অত্যন্ত সংযত ও বিনম্র সুরে বলেন, "আমরা শরিক বন্ধুদের আবেগকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু আজকের দিনে আমাদের সবাইকে একটু বাস্তববাদী হতেই হবে।
6
8
কোনও আসনেই কাউকে ছোট করার প্রশ্ন নেই; তবে যেখানে আমাদের কর্মীরা মাঠে নেমে লড়াই করার মতো জায়গায় আছেন, সেখানে সেই শক্তিকে কাজে লাগানোই তো ফ্রন্টের স্বার্থে ভালো। দেওয়াল লিখন থেকে শুরু করে বুথ পাহারা—সবটাই তো সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করতে হয়। তাই অতীতের নিয়মে আটকে না থেকে, মাটির বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে সবারই একসঙ্গে পথ চলা প্রয়োজন।"
7
8
সিপিএম শিবিরের যুক্তি একেবারে সোজাসাপটা—যেখানে কোনও শরিকের সংগঠন মাটিতে কার্যত অস্তিত্বহীন, সেখানে কেবল পুরনো নজিরের জোরে তাদের প্রার্থী করতে দেওয়ার অর্থ ভোটের আগেই হার মেনে নেওয়া। বরং যে দলের সক্রিয় কর্মী বাহিনী ও লড়াইয়ের রসদ রয়েছে, ময়দানে তাদেরই অগ্রাধিকার দিতে হবে।
8
8
নন্দীগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে অতি-সংবেদনশীল কয়েকটি আসনকে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখা হলেও, বাকি ক্ষেত্রে এই কঠোর নীতিতেই অনড় বড় শরিক। রেজিনগরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই টানাপোড়েন তাই নিছক একটি কেন্দ্রের অসন্তোষ নয়; চার দশকের চেনা ফ্রন্ট রাজনীতিতে বড় শরিকের ‘দাদাগিরি’ বনাম বাস্তবতার সংঘাতে আগামী দিনে যে নতুন আলোড়ন তৈরি হতে চলেছে, এটি তারই সুস্পষ্ট বার্তা।