বিশ্বকর্মা পুজোর দিন কেন রঙিন ঘুড়ি ওড়ানো হয়? 'ভো-কাট্টা' বলার আগে জেনে এর আসল কারণ
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ : ৪৩
শেয়ার করুন
1
8
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের একটি অন্যতম প্রধান উৎসব হল বিশ্বকর্মা পুজো। এই দিনে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনার পাশাপাশি আকাশজুড়ে রঙিন ঘুড়ির মেলা যেন অদ্ভুতভাবে মন ভাল করে দেয়।
2
8
কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, পুজোর দিনটিতে হুট করে ঘুড়ি ওড়ানোর এই চল এল কোথা থেকে? আজ 'ভো-কাট্টা' বলার আগে এর মাহাত্ম্য জেনে নিন।
3
8
সনাতন ধর্মে ঘুড়ি ওড়ানোকে কেবল খেলাধুলো হিসেবে দেখা হয় না, এর সঙ্গে গভীর আধ্যাত্মিক অর্থ যুক্ত আছে। অতীতে বিশ্বাস করা হত, ঘুড়ির সুতো হল মানবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগের প্রতীক।
4
8
ঘুড়ি আকাশে ওড়ানোর মাধ্যমে মানুষ যেন তার সুখ, শান্তি এবং ভক্তি ভগবানের চরণে পৌঁছে দেয়। এছাড়া, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা হলেন সৃষ্টির দেবতা। তাই আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে সৃষ্টির আনন্দ ও উৎসবের জোয়ারে মেতে ওঠেন সকলে।
5
8
এছাড়াও এই সময় বর্ষার আর্দ্র ভাব কেটে শরৎকালের আগমন। এই সময় প্রকৃতির রূপ বদলায়, আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ জমতে শুরু করে এবং তুলনামূলক ঠান্ডা হাওয়া বইতে থাকে।
6
8
বর্ষার স্যাঁতসেঁতেভাবে শরীরে যে ক্লান্তি ও জড়তা আসে, তা কাটাতে রোদে দাঁড়িয়ে ঘুড়ি ওড়ানো অত্যন্ত উপকারী। এর ফলে চোখের পেশির ব্যায়াম হয় এবং শরীর সচল থাকে।
7
8
বিশ্বকর্মার সঙ্গে দেবতাদের বিভিন্ন আকাশযানের নির্মাণের কথা জড়িয়ে আছে। আর পুরাণে আমরা শুনেছি পুষ্পক রথের গল্প। তাই লোকমুখে একটা কথা চালু আছে, বিশ্বকর্মার সেই উড়ন্ত রথের স্মরণেই নাকি তাঁর পুজোর দিনে আকাশে ঘুড়ি ওড়ানো হয়। এটা শাস্ত্রের বিধান নয়। লোকবিশ্বাস।
8
8
এছাড়াও জানা যায় উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলায় বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোর চল জনপ্রিয় হতে থাকে—এমন ঐতিহাসিক বর্ণনা পাওয়া যায়। কলকাতার ঘুড়ি সংস্কৃতির সঙ্গে নবাব ওয়াজেদ আলি শাহের সময়কার সাংস্কৃতিক প্রভাবের কথাও উঠে আসে।