প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়ালে আপনি যে মানুষটিকে দেখেন, তিনি কিন্তু সন্ধের তুলনায় সামান্য বেশি লম্বা! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটাই সত্যি।
2
10
বিজ্ঞানীদের মতে, একজন মানুষের উচ্চতা সকাল ও সন্ধের মধ্যে প্রায় ১ থেকে ২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি শরীরের একেবারে স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। এর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে আমাদের মেরুদণ্ডে।
3
10
মানুষের মেরুদণ্ড অনেকগুলো ছোট ছোট হাড় দিয়ে তৈরি। এই হাড়গুলোর মাঝখানে থাকে নরম ও নমনীয় ডিস্ক। এগুলো শরীরের ওজন বহন করতে সাহায্য করে এবং হাঁটা-চলা বা দৌড়ানোর সময় ধাক্কা সামলায়।
4
10
রাতে যখন আমরা ঘুমাই, তখন শরীর সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকে। শুয়ে থাকার কারণে মেরুদণ্ডের উপর চাপ অনেক কমে যায়। সেই সময় ডিস্কগুলো আবার জল ও অন্যান্য তরল শোষণ করে আগের অবস্থায় ফিরে আসে। ফলে মেরুদণ্ড সামান্য প্রসারিত হয় এবং সকালে আমাদের উচ্চতা কিছুটা বেড়ে যায়।
5
10
কিন্তু দিনের শুরু থেকে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। আমরা হাঁটি, বসি, দাঁড়িয়ে কাজ করি, সিঁড়ি ভাঙি কিংবা নানা ধরনের শারীরিক কাজ করি। এর ফলে শরীরের ওজন ও পৃথিবীর মহাকর্ষ বল মেরুদণ্ডের উপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে।
6
10
চাপের কারণে ডিস্কগুলো ধীরে ধীরে কিছুটা চ্যাপ্টা হয়ে যায় এবং তাদের ভেতরের তরলের পরিমাণও কমে আসে। ফলস্বরূপ মেরুদণ্ডের দৈর্ঘ্য সামান্য কমে যায়। তাই সন্ধ্যা বা রাতের দিকে উচ্চতা সকালে মাপা উচ্চতার তুলনায় কিছুটা কম দেখা যায়।
7
10
এই পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রেই হয়, তবে সবার সমান নয়। যাঁরা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করেন বা ভারী শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে উচ্চতার পার্থক্য একটু বেশি হতে পারে। আবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেরুদণ্ডের ডিস্কের স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়ায় এই পরিবর্তনের ধরনেও কিছু পার্থক্য দেখা যায়।
8
10
মজার বিষয় হল, মহাকাশচারীদের ক্ষেত্রে এই ঘটনা আরও স্পষ্ট। মহাকাশে পৃথিবীর মতো শক্তিশালী মহাকর্ষ বল না থাকায় মেরুদণ্ডের ডিস্কগুলো বেশি প্রসারিত হতে পারে। ফলে অনেক মহাকাশচারী মহাকাশে গিয়ে কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে যান। পৃথিবীতে ফিরে এলে আবার আগের উচ্চতায় ফিরে আসেন।
9
10
তবে সকালে বেশি লম্বা হওয়া মানে এই নয় যে আপনি সত্যিই নতুন করে লম্বা হয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী পরিবর্তন। তাই স্থায়ীভাবে উচ্চতা বাড়ানোর সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।
10
10
অর্থাৎ সকালে আপনার উচ্চতা যদি একটু বেশি দেখায় আর সন্ধেয় একটু কম লাগে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি আমাদের শরীরের স্বাভাবিক বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।