কেরিয়ারে ৮০০-র বেশি গান! কেন অকালেই প্লেব্যাক থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ালেন অরিজিৎ?
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬ : ০৪
শেয়ার করুন
1
11
মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে প্লেব্যাক গান থেকে অবসরের ঘোষণা করেন অরিজিৎ সিং। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়ক ইনস্টাগ্রামে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি জানিয়ে দেন, আর ছবির জন্য নিয়মিত কণ্ঠদান করবেন না।
2
11
এই ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগেই মুক্তি পেয়েছিল ‘মাতৃভূমি’। সলমন খানের আসন্ন ছবি ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’এর একটি গান, যেখানে অরিজিতের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রেয়া ঘোষাল। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে গানটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই এল এই অবসরের খবর।
3
11
কিন্তু হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত? অনেকের কাছেই এই প্রশ্নের উত্তর ধাঁধার মতো হলেও যাঁরা অরিজিতকে কাছ থেকে চেনেন, তাঁদের কাছে বিষয়টি একেবারে অপ্রত্যাশিত নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত এক্স (প্রাক্তন টুইটার) অ্যাকাউন্টের বলে দাবি করা একটি পোস্টের স্ক্রিনশট।
4
11
সেই পোস্টে অরিজিৎ নিজেই তাঁর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘এর পিছনে কোনও একটিমাত্র কারণ নেই। একাধিক বিষয় রয়েছে, আর দীর্ঘদিন ধরেই আমি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছিলাম। অবশেষে প্রয়োজনীয় সাহস জোগাড় করতে পেরেছি। একটি কারণ খুব সাধারণ। আমি খুব তাড়াতাড়ি বোর হয়ে যাই। সেই জন্যই একই গানের নানা রকম অ্যারেঞ্জমেন্ট বদলে মঞ্চে পরিবেশন করি। সোজা কথা, আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’
5
11
অরিজিতের এই সিদ্ধান্ত বুঝতে গেলে তাঁর সঙ্গীতজীবনের দিকে ফিরে তাকানো জরুরি। ২০০৫ সালে রিয়্যালিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’এ প্রতিযোগী হিসাবে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। ফাইনালের আগেই যদিও তাঁকে বাদ পড়তে হয়। ২০১০ সালে তেলুগু ছবি ‘কেড়ি’তে প্লেব্যাক গায়ক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেও বলিউডে তাঁর প্রথম বড় সুযোগ আসে ২০১১ সালে মার্ডার ২ ছবির ‘ফির মহব্বত করনে চলা হ্যায় দিল’ গানটির মাধ্যমে। সেই গানে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ দেন মহম্মদ ইরফান। তবে ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আশিকি ২ ’-এ তাঁর গাওয়া ‘তুম হি হো’ তাঁকে রাতারাতি খ্যাতি এনে দেয়।
6
11
আজ পর্যন্ত সিনেমা ও একক মিলিয়ে ৮০০-রও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন অরিজিৎ। অর্থাৎ গড়ে বছরে ৫০টিরও বেশি গান। শুধু গায়ক হিসাবেই নয়, ‘পাগলইট’এর মতো ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনাও করেছেন তিনি। পাশাপাশি, দেশ-বিদেশে একের পর এক লাইভ শো ও ট্যুরে ব্যস্ত থেকেছেন টানা বহু বছর।
7
11
রিয়্যালিটি শো ও নানা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে আসা অসংখ্য কণ্ঠের ভিড়ে নিজস্ব স্বকীয়তায় আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন অরিজিৎ সিং। তাঁর কণ্ঠস্বর আজও অগুনতি শ্রোতার আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। আর সেই কারণেই তাঁর প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত এতটা গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে সঙ্গীতপ্রেমীদের।
8
11
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্ম অরিজিতের। মুম্বইয়ের ঝলমলে দুনিয়া থেকে বহু দূরে। তারকা-খচিত পার্টি বা গ্ল্যামারের বৃত্তে তাঁকে খুব একটা দেখা যায়নি কখনও। সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি বরাবরই সংযত। নিজের সুরের জগতে ডুবে থাকাই তাঁর স্বভাব। মুর্শিদাবাদের স্টুডিয়োতেই বেশিরভাগ সময় গান রেকর্ড করেছেন অরিজিৎ। প্রয়োজন না হলে মুম্বইয়ে যাতায়াত নেই। শুধু কাজের তাগিদে বা কনসার্ট ও ট্যুরের জন্যই শহরে আসা। এতদিন ধরে এটাই ছিল তাঁর জীবন।
9
11
ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, সাফল্য, বিপুল জনপ্রিয়তা আর অর্থ, সবই দেখে ফেলেছেন অরিজিৎ। কিন্তু টানা ১৫ বছর ধরে বিরামহীন কাজের পর, যে কোনও শিল্পীর মনেই এক সময় ক্লান্তি এসে ভর করে।
10
11
আর ছবির গান মানেই নাকি নানা শর্ত আর সীমাবদ্ধতা। প্রযোজক, পরিচালক, গল্পের প্রয়োজন, বাজারের চাহিদা। অনেক সময় এই চাপ শিল্পীকে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করার সুযোগ দেয় না। সেই কারণেও প্লেব্যাক থেকে অরিজিৎ বিদায় নিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
11
11
অরিজিৎ সঙ্গীতকে বিদায় জানাননি। শুধু সিনেমার গানের জগত থেকে খানিকটা দূরে সরে গিয়ে নিজের শর্তে। নিজের মতো করে সৃষ্টির পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চলচ্চিত্রের গণ্ডির বাইরে যে বিস্তৃত সঙ্গীতভুবন, সেখানে মন খুলে কাজ করতেই এখন মন দিয়েছেন অরিজিৎ।