অনেকেই মনে করেন সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্পের সংখ্যা বেড়ে গেছে বা কখনও হঠাৎ কমে গেছে। কিন্তু বাস্তবে ভূমিকম্পের এই সাময়িক বৃদ্ধি বা হ্রাস পৃথিবীর স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার অংশ। বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্পের হার সময়ে সময়ে ওঠানামা করে, এবং এই পরিবর্তন বড় কোনও ভূমিকম্প আসন্ন—এমন ইঙ্গিত দেয় না।
2
8
ভূমিকম্পের তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ক্যাটালগে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূমিকম্পের সংখ্যা বেশি দেখা যায়। তবে এর মানে এই নয় যে ভূমিকম্পের প্রকৃত সংখ্যা বেড়েছে।
3
8
বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে অনেক বেশি সিসমিক যন্ত্র বসানো হয়েছে, এবং সেগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল। ফলে ছোট ছোট কম্পনও এখন সহজে ধরা পড়ছে, যা আগে রেকর্ডই হত না।
4
8
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কম্পন সেন্টানগুলি জানিয়েছে এখন প্রতি বছর প্রায় ২০,০০০টি ভূমিকম্প শনাক্ত করে, অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫৫টি।
5
8
আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে এখন ভূমিকম্পের খবর দ্রুত সারা বিশ্বে পৌঁছে যায়। ফলে অনেকের মনে হতে পারে ভূমিকম্পের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
6
8
দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান (প্রায় ১৯০০ সাল থেকে) অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬টি বড় ভূমিকম্প হওয়ার কথা। এর মধ্যে সাধারণত ১৫টি হয় মাত্রা ৭-এর কাছাকাছি এবং একটি হয় ৮.০ বা তার বেশি মাত্রার।
7
8
গত ৪০-৫০ বছরে প্রায় এক ডজন বছরে এই গড় সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১০ সালে ৭.০ বা তার বেশি মাত্রার মোট ২৩টি বড় ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল, যা ছিল সর্বোচ্চ। আবার ১৯৮৯ সালে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল মাত্র ৬টি এবং ১৯৮৮ সালে ছিল ৭টি—যা গড়ের তুলনায় অনেক কম।
8
8
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভূমিকম্পের সংখ্যা কখনও বাড়ে, কখনও কমে—এটি পৃথিবীর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। বর্তমান সময়ে বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড হওয়ার প্রধান কারণ উন্নত প্রযুক্তি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রকৃতপক্ষে ভূমিকম্পের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নয়।