রেলপথে সফর করার সময় স্টেশনে ঢোকা বা বেরোনোর মুখে একটি দৃশ্য সবারই চোখে পড়ে- উজ্জ্বল হলুদ রঙের নেমবোর্ড। আর তার ওপর কুচকুচে কালো হরফে লেখা স্টেশনের নাম।
2
9
দেশের ছোট-বড় সব স্টেশনেই এই একই দৃশ্য। অন্য বহু রঙ থাকা সত্ত্বেও কেন শুধু হলুদ আর কালোকেই বেছে নেওয়া হলো জানেন? জানলে তাজ্জব হয়ে যাবেন, এর পেছনেও রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ ও সুরক্ষাচিন্তা৷
3
9
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, মানুষের চোখ হলুদ রঙের প্রতি সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল। লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলেও দূর থেকে হলুদ রঙই মানুষের চোখ দ্রুত শনাক্ত করতে পারে। ফলে দ্রুতগতির ট্রেনের চালকেরা বহু দূর থেকেই স্টেশনের উপস্থিতি বুঝতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী গতি কমানোর সময় পান।
4
9
হলুদ রঙের ওপর কালো লেখা সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই অতিরিক্ত বৈপরীত্যের কারণে চালক বা যাত্রী- কাউকেই নাম পড়তে আলাদা করে চোখ নাচাতে বা কসরত করতে হয় না।
5
9
অন্ধকার রাত কিংবা শীতের ঘন কুয়াশাতেও হলুদ রঙ দূর থেকে ভেসে ওঠে। ট্রেনের হেডলাইট বা প্ল্যাটফর্মের আলো হলুদ বোর্ডে পড়লেও কালো হরফ থেকে কোনও আলো প্রতিফলিত হয়ে চোখে ধাঁধা (গ্লেয়ার) তৈরি করে না।
6
9
এছাড়া, ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ওয়ার্কস ম্যানুয়াল’-এর স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, সব নেমবোর্ডে ‘ট্রাফিক ইয়েলো’র ওপর কালো হরফই ব্যবহার করতে হবে।
7
9
মূল বোর্ডে অক্ষরের উচ্চতা ৩০০ মিলিমিটার এবং ছোট বা টারশিয়ারি বোর্ডে অক্ষরের উচ্চতা ৭৫ মিলিমিটার রাখা বাধ্যতামূলক।
8
9
মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও হলুদ রঙ অত্যন্ত কার্যকর। এটি মানুষের মস্তিষ্ককে দ্রুত সজাগ করে তোলে ও মনোযোগ আকর্ষণ করে, যা ট্রেন চালক ও যাত্রী উভয়কেই সতর্ক রাখতে সাহায্য করে।
9
9
অর্থাৎ, রেলের এই হলুদ-কালো সাইনবোর্ড কেবল নকশা নয়। বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানসম্মত এই সুরক্ষানীতি মেনেই তৈরি হয়েছে ভারতীয় রেলের চেনা নেমবোর্ড।